আরবি না বুঝে নামায পড়ার ফজিলত

আমরা যারা আরবি বুঝি না, নামায পড়াটা আমাদের অনেকের কাছে একটি অনুষ্ঠান হয়ে গেছে, যাতে আধ্যাত্মিক ভাবে আমরা খুব কমই লাভবান হই। আমরা ভুল আরবিতে কিছু আপত্তিকর শব্দ করি, হাত পা উঠা নামা করি, উপর-নীচ হই, ডানে-বামে তাকাই – আর ধরে নেই চমৎকার আল্লাহর ইবাদত করা হল। আরবি যাদের মাতৃভাষা, তারা যখন আমাদেরকে কিছুই না বুঝে আরবিতে নামায পড়তে দেখে, তখন তারা বড়ই অবাক হয় – কেন আমরা কিছুই না বুঝে এরকম একটা কাজ দিনের পর দিন করে যাচ্ছি? যেখানে তারা বুঝে শুনে নিজের মাতৃভাষায় আল্লাহর কথা স্মরণ করছে!

একটা উদাহরণ দেই,আমরা যখন বলি – কুলহু আল্লাহু আহাদ – এর বাংলা করলে দাঁড়ায় – খাও, আল্লাহ এক, অদ্বিতীয়। “কুল” অর্থ “খাও”। “কু’ল” (গলার ভিতর থেকে কু বলা) অর্থ “বল”। প্রতিদিন আমরা কত বার না বুঝে বলে যাচ্ছি – খাও, আল্লাহ এক, অদ্বিতীয় – এই ধরে নিয়ে যে নামাযে আমরা বেশ কিছু ভালো কথা বলছি, কিন্তু কি যে বলছি তা না জানলেও চলে, আল্লাহ বুঝলেই হল। আপনার সাথে যখন কোন আরব নামায পড়বে এবং আপনি ইমামতি করবেন, তখন সে আরব বেচারা কি কষ্ট করে হাসি এবং রাগ চেপে রেখে আপনার সাথে নামায পড়বে, কখনও ভেবে দেখেছেন কি?

ধরুন আল্লাহ চাইনিজ ভাষায় কু’রআন নাযিল করেছেন। শেষ নবী ছিলেন একজন চাইনিজ এবং ইসলামের প্রচার হয়েছে চায়না থেকে। আপনি প্রতিদিন সকালে উঠে কান পর্যন্ত হাত তুলে জোরে জোরে বলছেনঃ

চেন্‌ চুন্‌ শি চুই্‌ ওয়েদা

ব্যপারটা আমরা, বাঙালিদের কাছে, কতখানি হাস্যকর চিন্তা করে দেখুন। ঠিক একই ভাবে আরবদের কাছে আমাদের আরবিতে নামায পড়া, দোয়া পড়াটাও একই রকম হাস্যকর ব্যপার।

কু’রআনের সুরাগুলো আল্লাহ আমাদেরকে দিয়েছেন যাতে করে আমরা তার নির্দেশগুলো বুঝে অনুসরন করতে পারি। আল্লাহ পরিষ্কার বলে দিয়েছেন,

আর তোমরা যা বোঝো না তা অনুসরণ করবে না, নিশ্চয়ই শ্রবণ, দৃষ্টি এবং বুদ্ধিমত্তা – এই সবগুলোর ব্যপারে জবাবদিহি করতে হবে”। (কু’রআন ১৭:৩৬)

ইসলাম হচ্ছে একমাত্র ধর্ম যেখানে অন্ধ বিশ্বাসের কোন জায়গা নেই। আল্লাহ কু’রআনে মানুষকে বার বার চ্যালেঞ্জ করেছেন তাঁর বাণী নিয়ে চিন্তা করতে, বোঝার চেষ্টা করতে, বিজ্ঞান নিয়ে চিন্তা করতে,গবেষণা করতে।

আল্লাহ তাদেরকে কলুষিত করে দেন যারা তাদের বুদ্ধি-যুক্তি ব্যবহার করে না। (১০:১০০)

তারা কি কু’রআন সম্পর্কে চিন্তা করে না, তাদের অন্তর কি তালাবন্ধ? (৪৭:২৪)

আর তারা (জাহান্নামিরা) বলবে, আমরা যদি শুনতাম বা বুদ্ধি খাটাতাম তাহলে আমরা জাহান্নামিদের মধ্যে থাকতাম না। (৬৭:১০)

অন্ধ বিশ্বাস করে অর্থ না বুঝে ক্রমাগত গৎবাঁধা কিছু শব্দ উচ্চারণ করাটা অর্থহীন। আল্লাহ চান আমরা যেন নিজেদেরকে প্রতিদিন কমপক্ষে পাঁচ বার মনে করিয়ে দেই – আল্লাহ সবচেয়ে বড়, তিনি ছাড়া আর কারো কাছে কিছু চাওয়া যাবেনা, সঠিক পথে থাকার জন্য আল্লাহর কাছে নিয়মিত সাহায্য চেতে হবে, যারা ভুল পথে যায় তাদেরকে অনুসরণ করা যাবেনা, নিজের এবং মানুষের ক্রোধের শিকার হওয়া থেকে দূরে থাকতে হবে। প্রতিদিন শত সমস্যা, প্রলোভন, কামনা, বাসনা, অন্যায়, মিথ্যার মধ্যে থেকেও আমরা যেন পথ হারিয়ে না ফেলি, সে কারণেই আল্লাহ মানুষকে দিনে কমপক্ষে পাঁচ বার, দিনের নির্দিষ্ট সময়ে নামায পড়তে বলেছেন, যেন আমরা বার বার নামাযে নিজেদেরকে আল্লাহর নির্দেশগুলো স্মরণ করিয়ে দেই।

নামাযে আমরা যে কথাগুলো বলি তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা। নামাযের কথাগুলো শক্তিশালী অটোসাজেশন। আপনি যতবার বুঝে কথাগুলো বলবেন, আপনি তত বেশি করে অনুধাবন করবেন সেই কথাগুলোর গুরুত্ব কি। যারা মেডিটেশন কোর্স করেছেন, তারা উপলব্ধি করবেন নিজেকে প্রতিদিন কিছু পজেটিভ কথা বার বার বলার মধ্যে কত বড় উপকার আছে। সুতরাং বুঝে শুনে নামায পড়ুন, দেখবেন নামায পরে আপনি পরিতৃপ্তি পাচ্ছেন, শান্তি পাচ্ছেন, নিজের ভেতরে পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন। আপনার চিন্তা-ভাবনা, কথা, কাজের মধ্যে আল্লাহর উপস্থিতি আরও বেশি করে উপলব্ধি করছেন। নামাযে শেষ বসায় আল্লাহর সাথে একান্তে কথা বলুন, নিজের মাতৃভাষায়, গভীর আবেগ নিয়ে। তার সাথে এমনভাবে কথা বলুন যেন তিনি আপনার সামনেই আছেন। গৎবাঁধা কোন কথা বলার প্রয়োজন নেই। প্রত্যেক নামাযে নতুন কিছু বলুন আল্লাহকে, নতুন ভাবে বলুন, যেভাবে আপনি আপনার কাছের কোন মানুষের সাথে কথা বলেন। একসময় আপনি নিজেই অনুধাবন করতে পারবেন কেন প্রতিদিন পাঁচবার নামায পড়া উচিৎ। কেন আল্লাহ বলেছেনঃ

পড়, যা তোমাকে এই কিতাবে প্রকাশ করা হয়েছে, নামায প্রতিষ্ঠা কর, নিশ্চয়ই নামায মানুষকে অশ্লীল এবং অন্যায় কাজ থেকে দূরে রাখে, এবং আল্লাহর কথা সবসময় মনে রাখাটা আরও বেশি ভালো, আর আল্লাহ জানেন তোমরা কি কর। (কুরআন ২৯:৪৫)

اتْلُ (উতলু) অর্থ করা হয় – পড়। তিলাওয়াত যা تلو থেকে এসেছে, এর মূল অর্থ – পিছনে পিছনে হাঁটা, কাছে থেকে অনুসরণ, হুবহু অনুকরণ করা। আল্লাহ তিলাওয়াত শব্দটি বিশেষ ভাবে ব্যবহার করেছেন এই আয়াতে যেন আমরা না বুঝে শুধু আরবি শব্দগুলো গুন গুন না করি, বরং তা হুবুহু অনুকরণ করি (তাজয়িদ সহকারে) এবং যথার্থ ভাবে তার বাণী অনুসরণ করি। কোন কিছু অনুসরণ করতে গেলে প্রথমে তা ভালভাবে বুঝতে হবেই। এবং শুধু বুঝলেই হবে না। আমাদের কথা, কাজ, চিন্তা ভাবনা মধ্যে পরিবর্তন এনে তা জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলেই প্রকৃত অর্থে কু’রআন তিলায়াত করা হবে। তিলায়াতের অর্থ কে শুধুই “পড়” করে আমরা কত বড় ভুলই না করেছি! আমাদের ছেলে মেয়েদেরকে আমরা প্রতি শুক্রবার/রবিবার কু’রআন তিলাওয়াত করতে পাঠাই। কিন্তু তারা যা করে তা কি সত্যিই “তিলাওয়াত”?

আমাদের মধ্যে আরেকটি বড় ভুল ধারণা হল, আমরা যখন হাদিস পড়ি, বা কোন ধর্মীয় নির্দেশের কথা শুনি – যেমন এক লক্ষ বার কালিমা পড়লে সব গুনাহ মাফ হয়ে যায়, ১০ হাজার বার অমুক দোয়া পড়লে বিপদ কেটে যায়, ৫০ বার অমুক দোয়া পড়ে বুকে ফুক দিলে ভালো ঘুম হয় ইত্যাদি – আমরা একটি বড় ব্যপার খেয়াল করি না যে এগুলো যদি সত্যিই আমাদের নবী তার অনুসারীদেরকে বলে থাকেন – তবে তিনি কিন্তু আরবিতে, কিছু আরবকে, তাদের মাতৃভাষা আরবিতেই কিছু কথা নিজেদেরকে বার বার মনে করাতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি কিন্তু তার আরব অনুসারীদেরকে বলেন নি – দশ হাজার বার “চেন্‌ চুন্‌ শি চুই্‌ ওয়েদা” বললে তোমার সব বিপদ কেটে যাবে। বরং তিনি তাদেরকে বলেছেন – দশ হাজার বার “আল্লাহ সবচেয়ে বড়” বল, তোমার সব বিপদ কেটে যাবে। এক লক্ষ বার নিজেকে বল – “আল্লাহ ছাড়া কেউ অনুগত, উপাসনা, প্রার্থনা করার যোগ্য নয়” – তোমার সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। আমরা এই অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যপারটা ভুলে গিয়ে একটি বিজাতীয় ভাষায় না বুঝে কিছু শব্দ গুন গুন করে ধরে নিচ্ছি আরবদের যদি উপকার হয়, আমাদেরও নিশ্চয়ই উপকার হবে।

ভাষার সংজ্ঞা হল – “মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যমকে ভাষা বলে।” আমরা যদি মনের ভাবকে প্রকাশ,  প্রচার করতে না পারলাম, তাহলে তো সেটা ভাষা হল না। কিছু শব্দ আর ডাক ছাড়া তা আর কিছু নাঃ

আর যখন তাদেরকে বলা হয়, “আল্লাহ যা প্রকাশ করেছেন তা অনুসরণ কর”, তারা বলে, “না না! আমাদের বাপ-দাদারা যা অনুসরণ করেছে আমরাও তাই অনুসরণ করব”। কি! যদিও তাদের বাপ-দাদারা কিছুই বুঝতো না এবং তারা সঠিক পথেও ছিল না? যারা অবিশ্বাস/অস্বীকার করে তাদের উদাহরণ হল সেটার মত যেটাকে ডাকাডাকি করে কি যে বলা হচ্ছে সেটা তার কিছুই বোঝে না, ওর কাছে সেগুলো কিছু শব্দ আর চিৎকার ছাড়া আর কিছু না – বধির, মূক এবং অন্ধ, এরা কিছুই বোঝে না। (২:১৭০-১৭১)

এই আয়াতটি আমাদেরকে এটাই শেখায় যে যুগ যুগ ধরে আমাদের বাপ-দাদারা যা করে এসেছে কিছুই না বুঝে সেটা সম্পূর্ণ ভুল। যারা এরকম করে তাদের উদাহরণ হল গবাদি পশুর মত। খুবই অপমানজনক কথা।  বিশেষ করে যখন তা আমাদেরকে নিয়েই বলা হচ্ছে। নিজের ‘ইগো’ কে চেপে রেখে এধরণের আয়াতকে ঠিক ভাবে উপলব্ধি করে জীবন যাত্রায় আমূল পরিবর্তন করাটা খুবই কঠিন।

বিঃদ্রঃ নামাযে আমরা যা বলি তার বাংলা অর্থ করে আমি একটি লিফলেট বানিয়েছিলাম প্রচার করার জন্য। এখানে ক্লিক করে তা ডাউনলোড করে সবার সাথে শেয়ার করুন এবং আল্লাহর কাছে আমার জন্য দোয়া করুন – এই বিনীত অনুরোধ রাখি।

Print Friendly

About ওমর আল জাবির

কু'রআনকে গভীরভাবে ভালবাসি। সত্যকে জেনে, তা নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করে অন্যদেরকে অনুপ্রেরণা দেবার চেষ্টা করি।
This entry was posted in উপলব্ধি. Bookmark the permalink.

21 Responses to আরবি না বুঝে নামায পড়ার ফজিলত

  1. IDIDIT says:

    really inspiring….

  2. mahfuz says:

    আপনার দেয়া এই লিফলেটটি আমাদের গ্রামে ছড়িয়ে দেবো ইনশাল্লাহ।

  3. Sifat Abir says:

    nijer majhe ekta notun drishtivongi onudhabon korte parchi. dhonnobad. bishesh dhonnobad pdf file ti share korar jonno.

  4. ashiq says:

    লিফলেটে মাজহাবের কথা বলা হইসে এখন প্রশ্ন হচ্ছে কোনটা ঠিক বা সঠিক…।

    • ওমর আল জাবির says:

      যে যেই মাযহাব মানে, সে সেটাই মানুক। সব কিছুর সমর্থনেই সহিহ হাদিস আছে। সুতরাং, ছোট খাট ব্যপার নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিবাদ করে লাভ নেই। আমরা নামাযে খুঁটি নাটি ব্যপার নিয়ে ঝগড়া করে, নামায পড়ার যে মূল উদ্দেশ্য – আল্লাহকে স্মরণ করা, সেটাই ভুলে যাই।

  5. ওমর ভাই… আমি চাচ্ছিলাম আপনার বানানো লিফলেটটা কোনরূপ পরিবর্তন না করে যেভাবে আছে সেভাবেই কাগজে প্রিন্ট করে জুম্মার নামাযের শেষে মুসল্লীদের মধ্যেই বিতরণ করতে। আপনার অনুমতি চাচ্ছি…

    • ওমর আল জাবির says:

      অবশ্যই! আমার যে কোন আর্টিকেল যে কোন সময়ে, যে কোন মাধ্যমে, কোন পরিবর্তন না করে, যে কাউকে বিতরন করার অনুমতি দেওয়া হল।

  6. আনোয়ার says:

    আপনার কথাগুলো মূল্যবান। ধন্যবাদ জানাই আপনাকে। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন।

    আপনার কয়েকটা কথাতে সামান্য দ্বিমত আছে। তা হল, নামায শুদ্ধভাবে উচ্চারন করে না বুজে পড়লেও সহিহ হবে। তবে এটা ঠিক, অর্থ বুজে পড়লে মনোযোগে সাহায্য হয় এবং অবশ্যই উত্তম। আর অর্থ বুজে কিন্তু যদি উচ্চারনে ভুল পড়া হয় তাহলে সহিহ হবে না।

    আর দোয়ার উপকারিতার ক্ষেত্রে আপনার কথা মানতে পারলাম না। কারন দোয়ার অংশসমূহের আলাদা মর্যাদা আছে এবং এটা বাংলায় করলে কখনোই পাওয়া যাবে না। এজন্যই এগুলো দোয়া। সাহাবায়ে কেরাম নন-আরব বিভিন্ন দেশ জয় করেছেন, কিন্তু ভিন্ন ভাষিরা দোয়া এবং নামায আরবিতেই পড়তেন। তবে হ্যা, দোয়া আরবিতে করলেও এর অর্থ জেনে নেয়া এবং দোয়া করার সময় এই অর্থের দিকে খেয়াল রাখা উত্তম ।

    • ওমর আল জাবির says:

      জাযাকাআল্লাহ।
      আপনার দোয়ার ব্যপারে যে মত, অনুগ্রহ করে তার স্বপক্ষে কোনো কু’রআনের আয়াত বা সাহিহ হাদিস দেখাবেন কি?

      • আনোয়ার says:

        অনেক দোয়া এবং সুরার আলাদা ফজিলতের কথা হাদিসে এসেছে। যেমন সুরা-ইকলাস, সুরা-বাকারার শেষ আয়াতগুলো ইত্যাদি। এবং এইসবের ভিন্ন ভিন্ন ফজিলত। এথেকে বুজা যায়, এইসব উচ্চারনও নেহায়েত তাতপর্যহীন নয়। নচেত কিছু বিশেষ আয়াতকে নির্দিষ্ট করা হত না।

        আর সাহাবায়ে কেরাম যে বিভিন্ন দেশ জয় করার পরও ঐসব দেশে আরবিতেই নামায পড়া হত তা মানেন এবং জানেন।

        • ওমর আল জাবির says:

          আমি এরকম অনেকগুলো সূরার বিশেষ ফজিলত নিয়ে হাদিস পড়েছিলাম, পরে জানতে পারলাম সেগুলো জাল হাদিস। যেমন সুরা ইয়াসিন কু’রআনের হৃদয়, দশ ভাগের এক ভাগ, সুরা ওয়াক্কিয়াহ পড়লে বিপদ কেটে যায় ইত্যাদি। সেকারনেই জানতে চাচ্ছিলাম আপনার কাছে যথাযথ উৎস রয়েছে কিনা যাতে সহিহ হাদিসের উল্লেখ আছে।

          যেমন এই আর্টিকেলটি দেখুনঃ
          http://blog.omaralzabir.com/2012/12/03/fabricated-hadeet/

  7. আনোয়ার says:

    যেমন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের বিখ্যাত রেওয়ায়াত যেখানে তিনি হযরত উসমানকে সুরা ওয়াকিয়ার ফজিলতের কথা বলেছেন, যা হল ‘দারিদ্রতা স্পর্শ করতে না পারা’।

    অথচ ঐ সুরায় এই সংক্রান্ত কোন আলোচনা নেই।

  8. আনোয়ার says:

    সুরা মুলকের ফজিলত সম্পর্কে এই লিংকটি দেখুনঃ

    http://www.muftisays.com/blog/Seifeddine-M/327_19-05-2010/the-great-virtues-and-benefits-of-surah-mulk.html

    এইখানে তিরমিযী শরিফ এর রেফারেন্স পাবেন।

    • ওমর আল জাবির says:

      তিরমিযির একটা হাদিসেরও নম্বর দেওয়া নেই যে যাচাই করে দেখবো।

  9. তওফিক says:

    আপনি কি তাহলে বলতে চাচ্ছেন প্রতিদিন যে মাসনূন দোয়াগুলো পড়ি (টয়লেটে যাওয়ার দোয়া, ঘর থেকে বের হওয়ার দোয়া, ফজর/আসরের পরের কিছু আমল) সব বাংলায় পরতে হবে?

    • ওমর আল জাবির says:

      Shaykh al-Islam Ibn Taymiyah said:

      It is permissible to make du’aa’ in Arabic and in languages other than Arabic. Allaah knows the intention of the supplicant and what he wants, no matter what language he speaks, because He hears all the voices in all different languages, asking for all kinds of needs.

      Majmoo’ al-Fataawa, 22/488-489.

      Source: http://www.islamqa.com/en/ref/20953

      আপনি নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, আপনি যখন আরবিতে দোয়া করেন, আপনি কি বোঝেন আপনি আল্লাহর কাছে কি চাচ্ছেন, নাকি যখন বাংলায় বলেন তখন বোঝেন আল্লাহর কাছে আপনি কি চাচ্ছেন?

  10. tasnim karim shams says:

    Vaiya salam.
    Amke ektu kosto kore ki Dua e Qunoot er sohoj bangla meaning ki dite paren?
    Ling…pdf… Ja apnar jonno sohoj hoy?

    Dhonnobad
    Salam.

  11. Md. Alid says:

    আস্সালামু আলাইকুম, ভাই আমার কয়েকটি কথা-
    কোরআন আরবি ভাষায় আবর্তিত হয়েছে কারন আমাদের নবীজী ছিলেন আরবি ভাষায় কথা বলা একজন মহামানব। আর পৃথিবীর সবকিছু ই আল্লাহর সৃষ্টি, এমনকি ভাষাগুলো ও- সব ভালো ই আল্লাহর নেয়ামত। কোরআন যেহেতু আরবি ভাষায় আবর্তিত তাই ভাষাটা না বোঝাই স্বাভাবিক। আল্লাহ আমাদের সমান সওয়াব দিবেন, “কোরআন বুঝে পড়লেও সওয়াব, না বুঝে পড়লেও সওয়াব”। ভাই আপনি এখানে বলছেন যে, আরবের লোকেরা হাসবে + উদাহরন দিলেন ভুল আরবি পড়ার কথা। এটা কি হল?আপনার উদাহরন থেকে আপনি বলতে পারেন যে, ভুল আরবি পড়া যাবেনা + কোরআন সঠিকভাবে পড়তে হবে- তাই নয় কি? আর আমরা নামাজ পড়ব আরবদের দেখানোর জন্য নয়, আল্লাহর আনুগত্য করার জন্য। সে জন্য নামাজে দাড়িয়ে মন এমন করতে হবে যেন, আমরা আল্লাহকে দেখছি,তাঁর সাথে কথা বলছি। কে কি ভাবল সেটা জরুরি নয়। আশা করি বুঝতে পেরেছেন- দয়া করে কোরআন ও সহীহ হাদিসের বাইরে ইসলামের কোন ব্যাখ্যা দিবেননা। কারন নবীজী হাশরে বেদয়াতিদেরকে তাঁর দল থেকে বের করে দিবেন। চায়না বা আরবের লোকেরা ও আমাদের মত আল্লাহর গোলাম। ভূল ব্যখ্যা করবেননা। আস্সালামু আলাইকুম

    • ওমর আল জাবির says:

      ওয়ালাইকুম আসসালাম,
      ভাই আপনি আর্টিকেলের উদ্দেশ্যটাই ভুল ধরেছেন। এখানে বলা হয়নি যে আমরা আরব লোকদের খুশি করার জন্য শুদ্ধ আরবিতে নামাজ পড়বো বা কে কী ভাবল সেদিকে মনোযোগ দেবো। সেগুলো করতে গেলে তো নামাজ কবুল হওয়ার সম্ভাবনাই থাকবে না। আল্লাহ ﷻ শুধুমাত্র তাঁর জন্য নিবেদিত ইবাদাত কবুল করেন, লোক দেখানো ইবাদত কবুল করেন না। রিয়া ইবাদাত ধ্বংস করে দেয়।
      যাই হোক, আপনি যদি একটু সময় নিয়ে উদ্দেশ্যটা কী বোঝার চেষ্টা করেন, আমার মনে হয় আপনি তখন আর বিভিন্ন লাইনের কথাগুলো না ধরে আর্টিকেলের মূল উদ্দেশ্যটার উপলব্ধি করবেন।

      আপনাকে এই আর্টিকেলগুলো পড়ার অনুরোধ করবো। বুঝে নামাজ এবং কু’রআন তিলাওয়াত করার গুরুত্ব এবং সওয়াব কত বেশি, তা এগুলো থেকে স্পষ্ট হয়ে যাবে:

      না বুঝে দ্রুত তিলাওয়াতের ফাতওয়া
      https://islamqa.info/en/146675
      না বুঝে কু’রআন তিলাওয়াতের ফাতওয়া
      https://islamqa.info/en/131788
      আরবি বোঝার প্রয়োজনীয়তা
      https://islamqa.info/en/161844
      কু’রআনের তিলাওয়াত শুনে অর্থ নিয়ে চিন্তা করার প্রয়োজনীয়তা
      https://islamqa.info/en/150633

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *