আল্লাহ যদি সবই পারেন, তাহলে এমন ভারি কিছু কি বানাতে পারবেন, যেটা নিজেই তুলতে পারবেন না?

আমরা জানি, আল্লাহ ইচ্ছা করলে সব কিছু করতে পারেন। তার মানে তিনি ইচ্ছা করলে এমন ভারি কিছু বানাতে পারবেন, যেটা তিনি নিজেই তুলতে পারবেন না। এখন তিনি যদি সেই ভারি জিনিসটাকে তুলতে না পারেন, তার মানে তিনি সবকিছু করতে পারেন না। আর তিনি যদি সব কিছু তুলতে পারেনই, তার মানে তিনি আসলে এমন ভারি কিছু বানাতে পারেন না, যেটা তিনি নিজে তুলতে পারেন না। সুতরাং আল্লাহ বলে কিছু নেই।

এই ধরণের প্রশ্ন ফিলোসফিতে পড়ান হয় যাতে করে ফিলসফির ছাত্র-ছাত্রিদেরকে নাস্তিক বানিয়ে দেওয়া যায়। এই সব শত শত প্রশ্ন নিয়ে বছরের পর বছর চিন্তা করেও শিক্ষার্থীরা কোন উত্তর বের করতে পারে না এবং আসতে আসতে তারা আল্লাহর উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে, একসময় নাস্তিক হয়ে যায়। এছাড়াও আপনি নাস্তিকদের বইয়ে এই ধরণের অনেক প্রশ্ন পাবেন, যা দিয়ে তারা প্রমাণ করার চেষ্টা করে যে আসলে কোন সৃষ্টিকর্তা নেই।

এইসব প্রশ্নের সমস্যা হচ্ছে, আপনি এর উত্তর ‘হ্যা’ বলতে পারবেন না, আবার ‘না’ বলতে পারবেন না। দুই দিকেই ফেঁসে যাবেন।

Continue reading আল্লাহ যদি সবই পারেন, তাহলে এমন ভারি কিছু কি বানাতে পারবেন, যেটা নিজেই তুলতে পারবেন না?

কু’রআনে কি ধরণের বৈজ্ঞানিক তথ্য দেওয়া আছে

যিনি তাঁর প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে নিখুঁত করেছেন এবং মানবজাতির সৃষ্টির সূচনা করেছিলেন পানিসিক্ত অজৈব পদার্থ থেকে। (৩২:৭)

crab-nebula - after supernova explosionকু’রআনে পৃথিবী, সৌরজগত, মহাবিশ্ব এবং সৃষ্টির সূচনার যে বর্ণনা দেওয়া আছে তা সম্পর্কে ১৪০০ বছর আগে মানুষের কোনই ধারনা ছিল না। কু’রআন এমন একটি সময়ে প্রকাশ করা হয়েছে যখন কোন পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান, মহাকাশ বিজ্ঞান, চিকিৎসা বিজ্ঞান – কিছুই ছিল না। মানুষ মনে করতো পৃথিবী হচ্ছে একমাত্র জগত এবং আকাশ হচ্ছে পৃথিবীর ছাদ যেখানে চাঁদ, সূর্য, নক্ষত্র ভেসে বেড়াচ্ছে এবং রাতের বেলা সূর্য পৃথিবীর নিচে গিয়ে বিশ্রাম নেয় (গ্রীক হেলিওসেন্ট্রিসম, সাহিহ মুসলিম ১:০২৯৭)। অথচ কু’রআন, যা কিনা ৬১০-৬৩২ খ্রিস্টাব্দে নাজিল হয়েছে, এখন থেকে ১৪০০ বছর আগে এমন কিছু বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রকাশ করেছে, যা শুধুমাত্র সাম্প্রতিক বিজ্ঞানই সন্দেহাতীত ভাবে প্রমান করতে পেরেছে। কু’রআনে যে অগনিত বৈজ্ঞানিক তথ্যে ভরা আয়াত পাওয়া গেছে তা সব একসাথে করতে গেলে একটা বই লিখতে হবে। তাই আমি কিছু চমকপ্রদ আয়াত এবং সেগুলোতে কিধরনের বৈজ্ঞানিক/ঐতিহাসিক/গাণিতিক পাওয়া গেছে তা তুলে ধরলাম। বিস্তারিত জানতে quranmiracles.com দেখুন।

সৃষ্টি তত্ত্ব

  • আল্লাহ সব কিছুর সৃষ্টি করেছেন শূন্য থেকে – ২:১১৭।
  • পৃথিবী এবং মহাকাশ/বায়ুমণ্ডল একসময় একসাথে মিলিত ছিল এবং তা আলাদা করা হয়েছে বিশাল শক্তি দিয়ে – ২১:৩০।
  • পানি থেকে সকল প্রাণ তৈরি হয়েছে – ২১:৩০।
  • মহাবিশ্ব ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে – ৫১:৪৭।
  • মহাবিশ্ব ছয়টি পর্যায়ে তৈরি হয়েছে এবং প্রাণ সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ তৈরি হয়েছে চারটি পর্যায়ে – ৫০:৩৮, ৪১:১০।
  • প্রতিটি প্রাণীর সৃষ্টি হয় নিয়ন্ত্রিত বিবর্তনের মাধ্যমে – ৭:৬৯, ১৫:২৮, ২৪:৪৫, ৩২:৭, ৭১:১৪।
  • মানুষের সৃষ্টির সুচনা হয়েছিল পানিসিক্ত অজৈব পদার্থ (কাঁদা) থেকে – ৩২:৭, ১৫:২৬।
  • পৃথিবীর বাইরে মহাকাশে/বায়ুমন্ডলে প্রাণ আছে – ৪২:২৯। গত বছর বিজ্ঞানীরা আবিস্কার করেছেন মেঘে অত্যন্ত উচুতেও বিপুল পরিমাণে অতি ক্ষুদ্র কীটাণু আছে।

Continue reading কু’রআনে কি ধরণের বৈজ্ঞানিক তথ্য দেওয়া আছে

সাধারণ কিছু আয়াত, অসাধারণ সব লুকানো তথ্য

কু’রআনের আয়াতগুলো ভাষাতত্ত্ববিদদের জন্য তথ্যের খনি। আল্লাহ খুব সাধারণ দেখতে কিছু আয়াতে, সাধারণ কিছু গল্প বা কথোপকথনের মধ্য দিয়েই অসাধারণ সব তথ্য প্রকাশ করেন। যখনই কু’রআনের কোন আয়াতে কোন কথোপকথন আসে, তখনই দেখবেন আল্লাহ আমাদেরকে কথোপকথনের শব্দ, বাক্যগুলোর মধ্যে দিয়ে এই তথ্যগুলো তথ্য দেনঃ

  • বক্তার সংখ্যা, প্রকৃতি, জ্ঞান, মানসিকতা।
  • স্রোতার সংখ্যা, প্রকৃতি, জ্ঞান, মানসিকতা।
  • বক্তা এবং শ্রোতার মধ্যে সম্পর্ক।
  • কথোপকথনের আগে কি ঘটে গেছে এবং অনেক সময় তার পরে কি ঘটবে।
  • আশেপাশের অবস্থা, প্রেক্ষাপট। আশে পাশে যারা আছে তাদের ভুমিকা।

যেমন, নিচের আয়াতটি দেখুন যেখানে আল্লাহ আমাদেরকে একটি স্ত্রী পিঁপড়ার একটি মাত্র কথার মধ্য দিয়ে আমাদেরকে পিঁপড়াদের সম্পর্কে কত ধরণের তত্থ্য দিয়েছেনঃ

আর যখন তারা পিঁপড়াদের উপত্যকায় পৌছিয়েছিল, একটি পিঁপড়া(স্ত্রী) বলেছিল, “হে পিঁপড়ারা, তোমাদের ঘরগুলোতে প্রবেশ কর, যাতে করে সুলায়মান এবং তার বাহিনী তোমাদেরকে না বুঝে পিষে না ফেলে”। (২৭:১৮)

আপনার কাছে মনে হবে, এত ছোটদের কোন গল্পের বইয়ের মত। এখানে পিঁপড়াদের সম্পর্কে আল্লাহ নতুন কি জানালেন আমাদেরকে। লক্ষ্য করুন, এই আয়াতে আল্লাহ আমাদেরকে পিঁপড়াদের সম্পর্কে কতগুলো তথ্য দিয়েছেনঃ Continue reading সাধারণ কিছু আয়াত, অসাধারণ সব লুকানো তথ্য