নামায, রোযা করে কি হবে? আমি তো এমনিতেই ভালো মানুষ

আপনি একজন ভালো মানুষ – আত্মীয়স্বজনের উপকার করেন, গরিবকে দান-খয়রাত করেন, দেশের নিয়ম-কানুন মেনে চলেন। সামাজিকতা এবং সংস্কৃতির বিরুদ্ধে যায় এমন কিছু করেন না। সুতরাং আপনার নামায না পড়লেও চলবে, রোযা না রাখলেও কোন সমস্যা নেই, কারণ এগুলো নিছক কিছু আনুষ্ঠানিকতা। একজন আদর্শ নাগরিক হয়ে মানুষের ভালো করাটাই আসল কথা। মানব ধর্মই আসল ধর্ম; জীবে দয়া করিছে যে জন, সেজন সেবিছে ঈশ্বর। এই যদি আপনার ধারণা হয়, তাহলে আপনার অবস্থা নিচের তিনটির যে কোন একটি হতে পারেঃ

  • আপনি মনে করেন যে আপনি আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং উন্নত বিচার-বুদ্ধির কারণে কোনটা ভালো, কোনটা খারাপ এটা নিজেই যথেষ্ট বুঝতে পারেন এবং আল্লাহ্‌কে এবং তাঁর মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্যকে আপনি যথেষ্ট গভীর ভাবে উপলব্ধি করতে পারেন, যেটা অন্যেরা পারে না। নামায, রোজা শুধু ওই সব অর্ধ-শিক্ষিত, অল্প-জ্ঞানী মানুষদের জন্য দরকার যারা এখনও আপনার মত চিন্তার গভীরতা এবং উপলব্ধির উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি।
  • আপনি মনে করেন যে আপনার নীতিগত মূল্যবোধ থেকে যা কিছু ভালো মনে হয়, সেটাই ইসলামের চোখে ভালো। মানুষ তার নীতিবোধ থেকে যা কিছু ভালো এবং যা কিছু খারাপ মনে করে, তার বাইরে ইসলামের মূল্যবোধের কোন দরকার নেই। মানুষ নিজে থেকেই কি ভালো, কি মন্দ তা যথেষ্ট বোঝে; আল্লাহর মানুষকে এর বেশি কিছু শেখানোর নেই।
  • আপনি মনে করেন নামায, রোযা না করে আপনার কোন ক্ষতি হচ্ছে না, আপনি এমনিতেই যথেষ্ট ভালো আছেন। যেহেতু আপনার মতে আপনার কোন ক্ষতি হচ্ছে না, সুতরাং আপনার আল্লাহর বাণী শোনার কোন প্রয়োজন নেই। নামায, রোজা না করাটা যদি এতো খারাপ কাজ হতোই, তাহলে এতদিনে আপনার অনেক ক্ষতি হতে থাকতো। কিন্তু সেরকম কিছু তো হতে দেখা যাচ্ছে না। Continue reading নামায, রোযা করে কি হবে? আমি তো এমনিতেই ভালো মানুষ

বহুল প্রচলিত কিছু জাল হাদিস

fakehadithbookলোকে মুখে প্রচলিত হাজার হাজার জাল হাদিসকে আজকাল আমরা ধর্মের অংশ বলে মানা শুরু করে দিয়েছি। এই জাল হাদিসগুলো যে ইসলাম সম্পর্কে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই এমন মানুষরাই শুধু প্রচার করে যাচ্ছে তা নয়, এমনকি কিছু মসজিদের অপ্রাপ্ত প্রশিক্ষণ নেওয়া ইমাম, বিভিন্ন ওয়াজ-মাহফিলে আসা কিছু “আলেমকেও” দেখবেন সেই হাদিসগুলোর সত্যতা যাচাই না করে ব্যপক হারে প্রচার করে যাচ্ছেন। এরকম বহুল প্রচলিত কয়েকটি জাল হাদিস এখানে তুলে ধরলাম এবং সঠিক হাদিস চিহ্নিত করার প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতি ব্যাখ্যা করলাম।

জাল হাদিসঃ নবী ﷺ এর নাম ব্যবহার করে প্রচারিত বানোয়াট হাদিস। এধরনের হাদিসের বর্ণনাকারিদের মধ্যে এক বা একাধিক জন প্রতারক এবং কুখ্যাত হাদিস জালকারি বলে স্বীকৃত। অনেক সময় বর্ণনাকারিদের নামগুলোও মিথ্যা বানানো। এছাড়াও হাদিসটি কোন স্বীকৃত হাদিস গ্রন্থে পাওয়া যায়নি। অনেক সময় এধরনের হাদিস পীর, দরবেশ, আলেমরা নিজেরাই বানিয়ে প্রচার করেছেন কোন বিশেষ স্বার্থে। Continue reading বহুল প্রচলিত কিছু জাল হাদিস