আল্লাহ কি সব জায়গায়, সব কিছুতে আছেন? সবকিছুই আল্লাহর মধ্যে?

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

ছোট একটা কুইজ হয়ে যাক। বলুন দেখি কোনটা সঠিকঃ

  • আল্লাহ সব জায়গায় আছেন।
  • আল্লাহ সবকিছুর এবং সবার ভেতরে আছেন।
  • সবকিছুই, সমস্ত সৃষ্টি জগত আল্লাহর একটি অংশ।
  • আল্লাহ সৃষ্টির ভেতরেও নেই, বাইরেও নেই।
  • আল্লাহ ছাড়া আসলে আর কোন অস্তিত্ব নেই, সবকিছুই আল্লাহ।

আমরা যদি কমন সেন্স দিয়ে চিন্তা করি – নিশ্চয়ই আলাহ সব জায়গায় আছেন, না হলে তিনি সব কিছু দেখেন, শুনেন কি করে? যেহেতু সৃষ্টির আগে আল্লাহ ছাড়া আর কিছুই ছিলনা, তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর একটি অংশ দিয়ে সমস্ত সৃষ্টি জগত সৃষ্টি করেছেন। এমনও হতে পারে আসলে সবকিছুই আল্লাহরই একটি অংশ, আমরা আসলে আল্লাহরই ভিতরে আছি, এই দুনিয়াটা আসলে আমাদের মনের মধ্যে সৃষ্টি করা একটি মায়া মাত্র।

সঠিক উত্তর হল – এর সবগুলোই ভুল ধারণা। তবে আপনি কোন ধর্ম, গোত্র, ধারণায় বিশ্বাসী তার উপর নির্ভর করে আপনার কাছে এর সঠিক উত্তর কি হবে।

আপনি যদি হিন্দু হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি বিশ্বাস করবেন আল্লাহ সব জায়গায় আছেন এবং সবকিছুর মধ্যে আছেন। হিন্দুরা বিশ্বাস করে যে তাদের সর্বশক্তিমান, অসীম, অপরিবর্তনীয়, চিরজীবী, সর্বব্যাপী সত্তা হচ্ছে ব্রাহ্‌মান (ব্রাহ্‌মা না কিন্তু), যে হচ্ছে সৃষ্টি জগতের সকল শক্তি, বস্তু, সময়, স্থান, জ্ঞান এবং মহাবিশ্বের ভিতরে এবং বাইরে যা কিছু আছে তার সবকিছু। তাকে যখন উপাসনা করা দরকার হয়, তখন তারা একটি অর্ধেক মানুষ, অর্ধেক হাতি – গণেশ মূর্তির প্রতি মনোযোগ দেয়, কারণ তখন ব্রাহ্‌মান সেই মূর্তির মধ্যে ঘনীভূত হয়। তারা আসলে গণেশ মূর্তিটাকে পুজা করছে না, কারণ তারা জানে মূর্তিটার কোন ক্ষমতা নেই। বরং মূর্তিটার মধ্যে ঘনীভূত ব্রাহ্‌মানকে তারা পূজা করছে। এই হল হিন্দুদের ইয়গি বা তাদের জ্ঞানী আলেমদের ধারণা। অবশ্যই সাধারণ হিন্দুদের এত ভালো ধারণা নেই। তারা গণেশ মূর্তিকে পূজা করেই খুশি।

আপনি যখন বিশ্বাস করবেন আল্লাহ সব জায়গায় আছেন, তখন আপনি ধারণা করে নিচ্ছেন সৃষ্টি জগতের মধ্যে আল্লাহ মিশে আছেন। তার মানে হচ্ছে সকল সৃষ্টি আল্লাহরই অংশ। সুতরাং রাস্তায় যে কফ, থুথু পড়ে আছে, তার মধ্যেও আল্লাহ আছেন। আপনি যখন ভাত খাচ্ছেন, তখন আল্লাহরই অংশ খাচ্ছেন। যেহেতু সবকিছুর মধ্যেই আল্লাহ আছেন, সেহেতু সবকিছুই পবিত্র হতে বাধ্য। আপনার কাছে তখন গরু পবিত্র মনে হওয়া শুরু হবে, কারণ সেগুলোর মধ্যেও সৃষ্টিকর্তা আছেন। নানা ধরণের বিষাক্ত, হিংস্র প্রাণী যেমন সাপ, ইদুর, বানর পবিত্র মনে হওয়া শুরু হবে, কারণ সেগুলোর মধ্যেও সৃষ্টিকর্তা আছেন। একসময় অশ্লীল, নগ্ন মূর্তি, নানা ধরণের বিকৃত চিহ্নকে আল্লাহ মানতে আর কোন সমস্যা হবে না, যেহেতু সেগুলোর মধ্যেও আল্লাহ আছেন। এভাবে একসময় আপনি মূর্তি পূজায় – শিরকে ডুবে যাবেন।

বেশিরভাগ মানুষ আল্লাহকে বিশ্বাস করে, কিন্তু একই সাথে তারা শিরকও করে। (১২:১০৬)

আল্লাহ সবকিছুর ভেতরে আছেন এই ধারণাটিকে আরেকটু বিশুদ্ধ করেছেন ইবন আরাবি এবং নয় শতকের বিজ্ঞানী জালাল আদ-দিন-সুয়ুতি। তাদের মত হচ্ছে – আল্লাহ ছাড়া আসলে আর কিছু নেই। সৃষ্টি জগত কোন আলাদা কিছু নয়। সবকিছুই আল্লাহ। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, আপনি কেন আশে পাশের কোন কিছুকে উপাসনা করবেন? আল্লাহ তো আপনার, আমার, সবার মধ্যেই আছেন। বাইরের কোন কিছুর উপাসনা করে কি করবেন? তার চেয়ে আপনি নিজেকেই উপাসনা করতে পারেন – কারণ আপনি নিজেই আল্লাহ। আল্লাহর তাঁর রুহের একটি অংশ মানুষের মধ্যে দিয়ে দিয়েছেন, যখন তিনি আদমকে মাটি থেকে তৈরি করেছিলেন। সেই রুহের একটি অংশ এখনও মানুষের মধ্যে রয়ে গেছে। মানুষের কাজ হচ্ছে আল্লাহর আরাধনা করে ধ্যানের উচ্চস্তরে গিয়ে আল্লাহর রুহের সাথে একাত্ত হয়ে যাওয়া। যারা এই উচ্চ পর্যায়ে চলে যেতে পারে তারা তখন অনেক অতীন্দ্রিয় কাজ করতে পারে। তারা মানুষের ভাগ্য বলে দিতে পারে। ভবিষ্যৎ বলে দিতে পারে। তাদের তখন আর সাধারণ মানুষের মত নামায পড়ার দরকার হয়না। এভাবেই শুরু হয় সূফী মতবাদ। এরকম হাজারো শিরকের মধ্যে সূফী অনুসারীরা ডুবে গেছেন এবং ইসলামকে হিন্দু ধর্মের নানা রকম ধারণা দিয়ে ভরে ফেলেছেন। সূফীরা বিশ্বাস করে যে তাদের সর্বোচ্চ যে সূফী সাধক, তিনি এতই উপরে উঠে গেছেন যে, তিনি অতীন্দ্রিয় ক্ষমতার অধিকারী, ভবিষ্যৎ বলে দিতে পারেন এবং তিনি গায়েবের (অদৃশ্যের) জ্ঞান অধিকারী। আল্লাহ কু’রআনে পরিস্কার বলে দিয়েছেনঃ

শুধু তাঁর কাছেই অদৃশ্যর  (গায়েব) চাবি রয়েছে, তিনি ছাড়া আর কেউ তা জানে না। (৬:৫৯)

এধরনের কথা কখনও শুনেছেন? “চিন্তা সকল শক্তির উৎস”, “আমি যা চাই, সেটাই ইতিবাচক চিন্তা দিয়ে পাবো”, “ধ্যানের উচ্চস্তরে গিয়ে মহাচৈতন্য এর সাথে বিলীন হয়ে যান।” এগুলো সূফীবাদ থেকে অনুপ্রাণিত। মানুষকে নানা ধরণের অতীন্দ্রিয় ক্ষমতা দিয়ে, মানুষকে আল্লাহর কাছা কাছি নিয়ে যাবার আকাঙ্খা থেকে এই সব মতবাদ এসেছে। দুঃখজনক ভাবে এগুলো সবই শিরক। কারণ আল্লাহ সকল শক্তির উৎস। আল্লাহ ইচ্ছা না করলে কোন কিছু ঘটে না। আল্লাহ কোন মহা চৈতন্য সৃষ্টি করেছেন বলে কু’রআনে কোন উল্লেখ নেই। মানুষের যদি কোন অতীন্দ্রিয় ক্ষমতা থাকতো, তাহলে তা সবার আগে নবীদের (সা) মধ্যে থাকতো এবং তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ সবার আগে বের করে ফেলতেন। কিন্তু তারা সেটা পারেন নি। কু’রআনে পরিস্কার ভাবে বলা আছেঃ

 বল (মুহম্মদ), “আমি আল্লাহর রাসুলদের মধ্যে নতুন কিছু নই। আমি জানি না আমার সাথে কি করা হবে বা তোমাদের সাথে কি করা হবে। আমাকে যে ওহী দেওয়া হয়েছে, আমি শুধু সেটাই অনুসরণ করি। আমি একজন পরিস্কার সাবধানকারী ছাড়া আর কিছু নই।” (৪৬:৯)
বল (মুহম্মদ), “আমার নিজের কল্যাণ বা অকল্যাণ করার কোন ক্ষমতা আমার নেই। আল্লাহ যা চান, সেটাই হয়। আর আমি যদি অতীন্দ্রিয় (গায়েব) কিছু জানতাম, তাহলে আমি অনেক কল্যাণ অর্জন করে নিতে পারতাম এবং আমার কোন অকল্যাণ হতে দিতাম না। আমি একজন সাবধানকারী ছাড়া আর কিছু নই এবং একজন সুসংবাদ দাতা।” (৭:১৮৮)

সুতরাং আমাদের নবীর (সা) যদি কোন অতীন্দ্রিয় ক্ষমতা না থাকে, তিনি যদি নিজের বা অন্যের ভাগ্য বলে দিতে না পারেন, তিনি যদি ‘মহাচৈতনের’ সাথে বিলীন হয়ে যেতে না পারেন, তাহলে আমরা কোথাকার কে?

যারা মহা চৈতন্যের সাথে বিলীন হয়ে যেতে পারেন তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন মহা চৈতন্যের কাছ থেকে জেনে আসতে কালকে আবহাওয়া কেমন থাকবে। দেখুন তারা এরকম কিছু বলে কিনা – “কালকে দেশের কোন কোন স্থানে আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে, কোন কোন স্থানে হালকা অথবা মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। দেশের কিছু অঞ্চলে দমকা হাওয়া সহ ঝড় বৃষ্টিপাত হবার সম্ভাবনা রয়েছে।”

তবে বাকি সকল ধর্ম, গোত্র, ধারণার মত সূফী বাদেরও নানা ধরন আছে এবং সকল সূফীরাই যে ভ্রান্ত ধারণার অনুসারী এটা দাবি করাটা ঠিক হবে না। ধ্যনের একদম উচ্চস্তরে গিয়ে মানুষ আল্লাহর সাথে মিলিত হয়ে যাওয়ার মত অতিপ্রাকৃত ধারণা থেকে শুরু করে খুবই সাধারণ কিছু অতীন্দ্রিয় ক্ষমতা যেমন ইচ্ছা শক্তি দিয়ে অসুখ দূর করে ফেলা – এরকম নানা গভীরতার সূফীবাদ প্রচলিত।

মানুষ আল্লাহর কাছাকাছি যেতে পারে – এর একটি চরম পর্যায়ের ধারণা হল খ্রিস্টানদের ধর্ম, যেখানে কিনা স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা মানুষের রূপে একজন মানুষ মায়ের গর্ভে জন্ম নিয়েছিলেন। শুধু তাই না, আদমের পাপের কারণে মানব জাতির এত পাপ জমে গিয়েছিল যে সেই পাপ ক্ষমা করার জন্য তাকে ক্রুশ বিদ্ধ হয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে হয়েছে।  যারা এই ধারণায় বিশ্বাস করেন, তাদেরকে আপনি কয়েকটা প্রশ্ন করতে পারেনঃ

যদি যীশু স্বয়ং খোদা হয়ে থাকেন, তাহলে তিনি যখন মাটিতে মাথা দিয়ে প্রার্থনা করতেন, তিনি তখন কার কাছে প্রার্থনা করতেন? নিজের কাছেই?

যীশু যখন আকুল হয়ে খোদার কাছে সাহায্য চেতেন, তখন তিনি কার কাছে সাহায্য চেতেন? নিজের কাছেই? তিনি যখন খোদার কাছে একটি খাবার ভর্তি টেবিল চেয়েছিলেন, তখন কি তিনি আকাশের দিকে তাকিয়ে ‘ও প্রভু, আমাদের প্রভু, …’ বলে নিজেকেই সম্বোধন করছিলেন?

যীশু নিজেই যখন বলেছেন তিনি অলৌকিক কোন কিছুই নিজে করেন না, বরং তিনি ‘পিতার’ সাহায্য নিয়ে করেন, তাহলে তিনি আর পিতা এক হলেন কিভাবে?

খ্রিস্টানদের ধর্ম খুবই অযৌক্তিক ধর্ম। আপনি কোন যুক্তি দিয়ে, এমনকি তাদের নিজেদের বাইবেল দিয়েও খুঁজে বের করতে পারবেন না কিভাবে তারা এরকম একটি অবাস্তব ধারণায় বিশ্বাস করে।

E = mc2 = শিরক

আমাদেরকে বিজ্ঞান বইয়ে আইনস্টাইনের এই সূত্রটি পড়ান হয়, যার অর্থ হচ্ছেঃ

মহাবিশ্বে শক্তির সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না, শুধুমাত্র শক্তি বস্তুতে রুপান্তরিত হয় এবং বস্তু শক্তিতে  রুপান্তরিত হয়।

এটি শিরক, কারণ শক্তি বা মহাবিশ্ব কোনটাই অবিনশ্বর নয়। আল্লাহ শক্তিকে সৃষ্টি করেছেন এবং আল্লাহ মহাবিশ্বের সবকিছু একদিন ধ্বংস করে দিবেন।

আল্লাহ সব কিছুর সৃষ্টি কর্তা এবং তিনি সবকিছুর অধিপতি।  (৩৯:৬২)
পৃথিবীতে যা আছে সবকিছুই ধ্বংস হয়ে যাবে। (৫৫:২৬)

সুতরাং কোন কিছুকে অবিনশ্বর মনে করাটা শিরক। একমাত্র আল্লাহ অবিনশ্বর।

আল্লাহর সম্পর্কে সঠিক ধারণা

কু’রআনে আল্লাহর সম্পর্কে সঠিক ধারণার জন্য অনেক আয়াত রয়েছে, যেমনঃ

তাঁর সাথে তুলনা করার মত আর কিছুই নেই। (৪২:১১)
তাঁর সাথে তুলনা করার মত কোন অস্তিত্ব নেই। (১১২:৪)
ওরা কখনও তাঁকে ওদের জ্ঞানের মধ্যে ধারন করতে পারবে না। (২০:১১০)

আমরা যদি আল্লাহর সম্পর্কে কোন ধারণা করতে পারতামই, তাহলে সেটা আর কোন সৃষ্টিকর্তা হত না বরং সেটা এমন কিছু একটা হত যেটার ধারে কাছে কিছু আমরা এর আগে দেখেছি, কারণ মানুষ এমন কোন কিছু কল্পনা করতে পারে না যেটা সে এর আগে কখনও দেখেনি। আপনি লক্ষ করবেন যত বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী আছে সেগুলোতে এলিয়েনদেরকে দেখান হয় অক্টোপাসের মত শূর এবং মানুষের মত হাত-পা সহ; না হলে দেখা যায় গরিলার চামড়া, গরুর শিং, কুমিরের মত লেজ একসাথে মিশানো একটা কোন প্রাণী; না হয় আলোর তৈরি মানুষের কাছাকাছি দেখতে কোন একটা প্রাণী; না হলে প্লাজমার মত কোন জীব। মানুষ কখনই আগে যা কোন দিন দেখেনি, তার বাইরে কোন কিছু কল্পনা করতে পারেনা। তার সমস্ত কল্পনা হচ্ছে পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে নেওয়া।

মোল্লা আলী আল-কারী একটা চমৎকার কথা বলেছেন – “আমরা আল্লাহকে কখনও আমাদের কল্পনায় ধারন করতে পারবো না। আমরা যেটাই কল্পনা করি, আল্লাহ হচ্ছেন সেটা ছাড়া অন্য কিছু, কারণ আল্লাহ বলেছেন, “ওরা কখনও তাঁকে ওদের জ্ঞানের মধ্যে ধারন করতে পারবে না।” (মিনাহ আল-রাউদ আল-আজহার ফি শারহ আল ফিকহ আল আকবার, পৃষ্ঠা ১১৭)

আল্লাহ স্থান এবং কালের উর্ধে কারণ তিনিই সকল স্থান (মহাবিশ্ব) এবং সময় সৃষ্টি করেছেন। তিনি যদি কোন ভাবে কোন স্থানে থাকতেন বা কোন সময়ে থাকতেন, তাহলে প্রশ্ন আসতো - স্থান এবং কাল সৃষ্টির আগে তিনি কোথায় এবং কখন ছিলেন?

নিশ্চয়ই আল্লাহর সৃষ্টি জগতের কোন কিছুরই দরকার নেই। (২৯:৬)

আলী (রা) বলেছেন, “আল্লাহ অস্তিত্বমান ছিলেন যখন কোন স্থান ছিলনা, এবং তিনি এখন সেখানেই আছেন যেখানে তিনি সবসময়ই ছিলেন।” (আল ফারক বাইনা আল ফিরাক, পৃষ্ঠা ৩৩৩)

ইমাম আবু হানিফা বলেছেন, “যদি জিজ্ঞেস করা হয়, “আল্লাহ কোথায়?” তাহলে তাকে বল, আল্লাহ অস্তিত্বমান ছিলেন যখন কোন স্থান ছিল না, সৃষ্টি জগত সৃষ্টি হবার আগে। এবং আল্লাহ অস্তিত্বমান ছিলেন যখন কোন “কোথাও” ছিল না, কোন সৃষ্টি, কিছুই ছিল না। তিনি সব কিছু সৃষ্টি করেছেন। (আল ফিকহ আল আবসাত, পৃষ্ঠা ২১)

একারণে যদি বলা হয় আল্লাহ আকাশে আছেন বা তিনি সব জায়গায় আছেন বা তিনি তাঁর আরশে আছেন, তাহলে সেটা ভুল। কারণ হচ্ছে এগুলো সবই তাঁর সৃষ্টি এবং এসব কিছুরই কোন সীমা আছে। আল্লাহকে কোন সৃষ্টির মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলা যাবে না।

আবার এটাও যদি বলা হয়, “তাঁর সৃষ্টি জগতের সাথে কোন সম্পর্ক নেই এবং তিনি সৃষ্টি জগত থেকে আলাদাও নন”, তাহলে সেটাও ভুল, কারণ এই দুটো কখনও এক সাথে সত্য হতে পারে না। এর মানে দাঁড়ায় তিনি আসলে নেই।

আমরা যখনি বলি, “অমুক ওখানে আছে”, আমরা ধরে নেই অমুকের কোন আকার আছে এবং সেটা কোন একটি জায়গায় তার আকার ধারন করে আছে। আরেক ভাবে বললে, সেটা তার আকারের সমান কোন একটা জায়গা দখল করে আছে। সুতরাং আমরা যখন ভাবি আল্লাহ আছেন, অনেক সময় আমরা ভুল ভাবে ধরে নেই আল্লাহর কোন আকার আছে এবং তিনি কোথাও, কোন এক জায়াগায়, তাঁর আকারের সমান কোন জায়গা দখল করে আছেন। এই চিন্তাটা সম্পূর্ণ ভুল। আমাদেরকে সবসময় মনে রাখতে হবেঃ

তাঁর সাথে তুলনা করার মত কোন অস্তিত্ব নেই। (১১২:৪)

আমরা যদি ভাবি - আল্লাহ বোধহয় এই মহাবিশ্বের বাইরে পুরো মহাবিশ্বকে ঘিরে আছেন – সেটাও ভুল ধারণা। তাহলে প্রশ্ন আসবে মহাবিশ্ব যখন ছিল না, তখন তিনি কোথায় ছিলেন? মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়ে নিশ্চয়ই আল্লার ভিতরে কোন জায়গা দখল করে নেয় নি! আল্লাহ নিশ্চয়ই সরে গিয়ে মহাবিশ্বের জন্য কোন জায়গা করে দেন নি!

একই ভাবে আমরা যদি ভাবি, মহাবিশ্ব হচ্ছে ত্রিমাত্রিক (প্রকৃতপক্ষে চার মাত্রা, তবে গত শতাব্দীতে ১১ মাত্রা প্রস্তাব করা হয়েছে) এবং আল্লাহ আরও বেশি মাত্রায় আছেন, তাহলে সেটাও ভুল। কারণ মাত্রা আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন। যখন মাত্রা ছিলনা, তখন আল্লাহ কিভাবে ছিলেন?  আবারো নিজেকে বার বার বলুনঃ

তাঁর সাথে তুলনা করার মত কোন অস্তিত্ব নেই। (১১২:৪)

মনে রাখবেন, আপনি যাই ধারণা করে বের করবেন, আল্লাহ হচ্ছেন সেটা ছাড়া অন্য কিছু। আপনি যদি সৃষ্টি কর্তাকে ধারণা করতে পারতেনই, তাহলে সেটা আর আকার, স্থান, কাল বিহীন, অতুলনীয় কোন স্রষ্টা হত না।

কিছু বিতর্কিত আয়াত

কু’রআনের কিছু আয়াত নিয়ে গত হাজার বছরে অনেক বিতর্ক হয়েছে। বেশিরভাগ বিতর্কের কারণ হল কিছু আয়াতের অর্থ আক্ষরিক অর্থে নিলে তা আমাদের অভিজ্ঞতা এবং বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে যায়। এরকম কিছু আয়াত ব্যবহার করা হয় আল্লাহকে খ্রিস্টান গড এর মত লম্বা দাড়ি, হাত-পা ওলা এক সৃষ্টিকর্তা হিসেবে প্রমাণ করতে। আবার কিছু আয়াতকে ব্যবহার করা হয় কু’রআনকে ভুল প্রমাণ করতে ইত্যাদি। এসব আয়াত নিয়ে মানুষের আগ্রহের কোন সীমা নেই। এই ধরণের আয়াত এবং মানুষদেরকে নিয়ে আল্লাহ আমাদেরকে আগেই বলে রেখেছেনঃ

তিনিই তোমার (মুহম্মদ) প্রতি কিতাব অবতরণ করেছেন। এর কিছু আয়াতের অর্থ একদম পরিস্কার, সেগুলোই কিতাবের মূল ভিত্তি। এবং কিছু আয়াত রুপক অর্থে। যাদের অন্তরে কুটিলতা আছে, তারা ওই সব রুপক অর্থে আয়াতগুলোকে আগ্রহ নিয়ে খুঁজে বের করে সমস্যা সৃষ্টি করার জন্য এবং নিজের ইচ্ছা মত অর্থ করার চেষ্টা করে। একমাত্র আল্লাহই সেগুলোর প্রকৃত অর্থ জানেন এবং যাদের গভীর জ্ঞান আছে তারা বলে, “আমরা এতে বিশ্বাস করি, এগুলো সবই আমাদের প্রভুর কাছ থেকে এসেছে” – শুধু মাত্র যারা বুদ্ধিমান, তারাই এ থেকে শিক্ষা নেয়। (৩:৭)

চলুন এরকম কিছু আয়াত দেখি।

আরশ কোথায়? আল্লাহ আরশে বসেন কিভাবে?

নিচের আয়াতগুলো নিয়ে ইসলামের একদম শুরু থেকে আরম্ভ হয়ে গত হাজার বছরে বহু বিতর্ক হয়েছেঃ

তোমাদের প্রভু হচ্ছেন আল্লাহ, যিনি ছয়  দিনে/পর্যায়ে আকাশগুলো এবং পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি  সিংহাসনে (আরশে) অধিস্থিত হয়েছেন। (৭:৫৪)
পরম করুণাময় সিংহাসনে (আরশে) সমাসীন/অধিস্থিত হয়েছেন। (২০:৫)

এই আয়াতগুলো নিয়ে অনেকেই আক্রমণ করেন যে – আল্লাহ কি সিংহাসনে বসেন? তিনি কি সিংহাসনে বসে সবকিছু নিয়ন্ত্রন করেন? তাঁর কি সৃষ্টি জগত নিয়ন্ত্রন করার জন্য সিংহাসন দরকার?

প্রথমত, আল্লাহর যদি আরশে বসার দরকার হয়, তাহলে তিনি আরশ বানাবার আগে কোথায় বসে ছিলেন? নাকি তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন? এগুলো সবই অবান্তর প্রশ্ন।

দ্বিতীয়ত, আরশকে সিংহাসন অনুবাদ করা হলেও, কেন আমরা ধরে নিচ্ছি সেই সিংহাসন হচ্ছে মানুষ যে ধরণের সিংহাসন বানায় সে ধরনের কিছু? মানুষের শরীর ধরে রাখার জন্য যে আকৃতির সিংহাসন দরকার, সে আকৃতির সিংহাসনে তো একটা মাছও বসতে পারবে না, পিছলিয়ে পড়ে যাবে। মাছের জন্য সিংহাসন হবে এমন কিছু যেখানে সে পানিতে ডুবে ভেসে থাকতে পারে। সুতরাং আল্লাহর সিংহাসন যে মানুষের সিংহাসনের ধারে কাছেও কিছু একটা - এটা ধারণা করাটাও হাস্যকর।

পাশ্চাত্যের চলচ্চিত্রগুলোতে সর্ব শক্তিমান সৃষ্টিকর্তাকে (ইব্রাহিম (আ) এর খোদাকে) দেখানো হয় বিশাল দেহী সাদা চুল-দাড়ি, সাদা আলখাল্লা পড়া এক মধ্য বয়স্ক ভদ্রলোক, যে মেঘের মধ্যে এক বিশাল সিংহাসনে বসে নিচে ছোট একটা পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রন করে। মাঝে মাঝে সে আবার সাদা জামা এবং সাদা প্যান্ট পড়ে, মুখ ভর্তি তিল সহ এক আফ্রিকান-আমেরিকান মানুষের রুপ নিয়ে পৃথিবীতে আসে। এগুলো দেখতে দেখতে আমাদের চিন্তা ভাবনার মধ্যে শিরক ঢুকে গেছে। আমরা আজকাল কোন আকার বিহীন সৃষ্টিকর্তাকে সহজে কল্পনা করতে পারি না। এরকম ভয়ঙ্কর অপমানজনক, আপত্তিকর ভাবে স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাকে ব্যঙ্গ করা হচ্ছে, কিন্তু মুসলমানরা তার কোন প্রতিবাদ করছে না। মুসলমান, খ্রিস্টান এবং ইহুদিরা সবাই এক সর্ব শক্তিমান সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করে। কিন্তু যুগে যুগে খ্রিস্টান এবং ইহুদিরা তাদের বানানো ভুয়া নবী, পাদ্রি, এবং রাব্বিদের মনগড়া শিক্ষা দিয়ে সৃষ্টিকর্তার ধারনাকে কলুষিত করে ফেলেছে, যেভাবে কিনা মুসলমানরা কয়েক লাখ জাল হাদিস দিয়ে ইসলামের শিক্ষাকে কলুষিত করে ফেলেছে। খ্রিস্টান এবং ইহুদিরা যখন সর্ব শক্তিমান সৃষ্টিকর্তাকে ত্রিনিটি, সান-অফ-গড, মানুষ রুপী গড ইত্যাদি ধারণা দিয়ে অপমান করছে, তারা ইব্রাহিম(আ) এর খোদাকেই অপমান করছে, যিনি মুসলমানদেরও সৃষ্টিকর্তা। তারা এই সব অপপ্রচার করে মুসলমানদের মনের মধ্যেই শিরক ঢুকিয়ে দিচ্ছে। মুসলমানদের উচিত সৃষ্টিকর্তার এত বড় অবমাননার প্রতিবাদ করা, যেভাবে তারা নবীর (সা) প্রতি অসন্মান হলে প্রতিবাদ করে। শুধু তাই না, মুসলমানদের উচিৎ ঈসা (আ) কে নিয়ে যে চরম ব্যঙ্গ করে কার্টুন, চলচ্চিত্র বানানো হচ্ছে, সেগুলোরও প্রতিবাদ করা, কারণ তিনি আমাদেরও নবী। আল্লাহ আমাদেরকে কোন নবীর মধ্যে পার্থক্য করতে মানা করে দিয়েছেনঃ

রাসুল বিশ্বাস করেছে যা তাকে তার প্রভুর কাছ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে এবং বিশ্বাসীরাও। তারা সবাই বিশ্বাস করেছে আল্লাহ, তার ফেরেশতাদেরকে, তার কিতাবগুলোকে, এবং তার রাসুলদেরকে/বার্তাবাহকদেরকে। “আমরা তার বার্তাবাহকদের/রাসুলদের কারও মধ্যে কোন পার্থক্য করিনা”, আর তারা বলে, “আমরা শুনি এবং আমরা মেনে চলি, আমাদেরকে ক্ষমা করুন আমাদের প্রভু এবং আপনার কাছেই আমরা ফেরত যাই”। (২:২৮৫)

এই তিন ধর্মের সৃষ্টিকর্তা যে এক, তা জানতে দেখুন – জাকির নায়েকের লেকচারগুলো।

তৃতীয়ত, আমাদেরকে বুঝতে হবে আরশ হচ্ছে এমন একটা সৃষ্টি যেটা মহাবিশ্বের মত কোন কিছু নয়। সেটি মহাবিশ্বের বাইরে, না ভিতরে, না কোন ভিন্ন মাত্রায় আছে - আমরা তার কিছুই জানি না। আমরা শুধুই জানি, সেটা মহাবিশ্ব নয়, কারণ আল্লাহ বলেছেন যে তিনি সমস্ত আকাশ (মহাকাশ) এবং পৃথিবী এবং আরশ সৃষ্টি করেছেন; এবং আরশ সৃষ্টি জগতের উর্ধে। যেহেতু আমরা মহাবিশ্বের বাইরে, আমাদের দেখা, শোনা, পরিমাপ করার উর্ধে কোন কিছু কোন দিন কল্পনা করতে পারি না, সুতরাং আরশ কি সেটাও আমরা কোন দিন কল্পনা করতে পারবো না। সেই আরশে স্বয়ং সৃষ্টি কর্তা কিভাবে অধিষ্ঠিত হন, সেটা তো দুরের কথা।

আল্লাহ আমাদেরকে আমাদের সীমিত ভাষা দিয়ে আরশের একটা ধারণা দিয়েছেন মাত্র। আমরা যেমন একটা পিঁপড়াকে তার ভাষা – ‘খাদ্য, আক্রমণ, পালাও’ এই তিনটি শব্দ দিয়ে কোন দিন বুঝাতে পারবো না কম্পিউটার কি, সেরকম মানুষকেও তার সীমিত ভাষা দিয়ে কখনই মহাবিশ্বের বাইরে, মানুষের অভিজ্ঞতার উর্ধে কোন কিছুর ধারণা দেওয়া সম্ভব নয়। মানুষের অত্যন্ত সীমিত ভাষা দিয়ে মোটামুটি ধারণা দেওয়া যায়, এরকম কিছু রুপক কথা আল্লাহ কু’রআনে বলেছেন। সেগুলো কোনভাবেই আক্ষরিক বর্ণনা নয়।

আল্লাহ কি আকাশে নন?

 তোমরা কি নিশ্চিত যে, যিনি আকাশে আছেন, তিনি  সেখান থেকে তোমাদের উপর পাথর বৃষ্টি করবেন না? তোমরা তখন জানতে পারবে আমার সাবধান বাণী কি। (৬৭:১৭)

এই আয়াতটি দেখিয়ে প্রমাণ করা হয় যে আল্লাহ আকাশে আছেন। এখন আল্লাহ যদি আকাশে থাকেন, তাহলে আকাশের কোথায় আছেন? তিনি কি বায়ুমণ্ডলে আছেন? নাকি বায়ুমণ্ডলের বাইরে মহাকাশে আছেন? মহাকাশে কোথায় আছেন? আমাদের ছায়াপথে, নাকি মহাবিশ্বের মাঝখানে যে অনন্ত শূন্যতা আছে সেখানে? যখন আকাশ ছিল না তখন আল্লাহ কোথায় ছিলেন?

মনে রাখবেন আরবি ‘সামা’ (আকাশ) অর্থ আমাদের মাথার উপরে অনন্ত অসীম পর্যন্ত যা আছে তার সব কিছু। এই মুহূর্তে আপনার ‘সামা’ বা আকাশ হচ্ছে যা কিছু আপনার মাথার উপর থেকে শুরু হয়ে অনন্ত অসীম পর্যন্ত গেছে। আমার মাথার উপরে এখন যা আছে, সেটা এখন আপনার পায়ের নিচে। আপনি আমি যদি পৃথিবীর দুই প্রান্তে বাস করি তাহলে আপনার মাথার উপরে যা থাকে, সেটা আমার পায়ের নিচে থাকে।

সুতরাং কোন ভাবেই প্রমাণ করা যায় না যে আল্লাহ আকাশে আছেন। সঠিক ধারণা হচ্ছে তিনি সৃষ্টি জগতের উর্ধে আছেন। সেই উর্ধে অর্থ উপরে না কারণ সৃষ্টি জগতের কোন উপর বা নিচ নেই। আর আপনার কাছে যেটা এখন উপরে, আমি পৃথিবীর অন্য প্রান্তে থাকলে আমার কাছে সেটা পায়ের নিচে কারণ পৃথিবী প্রায় গোলাকার। এছাড়াও এতদিন পর্যন্ত ধারণা করা হত মহাবিশ্ব হচ্ছে গোলাকার এবং বিগ ব্যাঙ্গের পর থেকে গোলাকৃতির মহাবিশ্ব ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে। কিন্তু ২০০০ সালে প্রমাণিত হয়েছে মহাবিশ্ব সমতল। যদিও আমরা আমাদের চারিদিকে ত্রিমাত্রিক বিশ্ব দেখি কিন্তু প্রকৃত পক্ষে মহাবিশ্ব সমতল। চিন্তার বাইরে একটি ধারণা। বহু পদার্থবিজ্ঞানী বহু চেষ্টা করেও এর বিরুদ্ধে প্রমাণ করতে পারেন নি। মহাবিশ্ব সত্যিই সমতল! তবে সেটা কাগজের মত সমতল নয়। ভিন্ন ধরনের সমতল। যার অর্থ মহাবিশ্বের কোন সীমা নেই, কোন উপর বা নিচ বলে কিছু নেই।

সুতরাং আল্লাহ মহাকাশে আছেন এটা ভুল ধারণা। উপরের আয়াতটিতে এটাই বলা হয়েছে যে আকাশে আল্লাহর আধিপত্য রয়েছে এবং তিনি ইচ্ছা করলেই অতি বৃষ্টি, উল্কাপাত, ধুমকেতু দিয়ে যে কোন সময়, যে কোন জাতিকে ধ্বংস করে দিতে পারেন। তিনি বহুবার সেটা করেছেন। তাই আল্লাহ মানুষকে বলছেন সেই সব ধ্বংস হয়ে যাওয়া জাতিগুলোর কথা মনে করে আল্লাহর ক্ষমতার কথা মনে রেখে সাবধান থাকতে। ইমাম আল-কুরতুবি বলেন, “এই আয়াতের অর্থ হচ্ছে, তোমরা কি তাঁকে ভয় কর না যাঁর ক্ষমতা, সার্বভৌমত্ব, সিংহাসন এবং রাজত্ব আকাশে রয়েছে। এখানে আকাশকে বিশেষ ভাবে বলার কারণ হল, যদিও আল্লাহর সবকিছুতেই ক্ষমতা রয়েছে, এখানে বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে আল্লাহর ক্ষমতার প্রকাশ আকাশে ঘটে। … আমি মনে করি এই আয়াতের অর্থ হবে, ‘তোমরা কি আকাশে যারা আছে তাদের সৃষ্টি কর্তাকে আর ভয় করোনা?’” (আল-জামি’ লি আহকাম আল-কু’রআন, ৬৭:১৭ আয়াতের তাফসির)

কু’রআনে বেশ কিছু আয়াতে আল্লাহর কাছে ‘উর্ধে গমন’ উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সেই উর্ধে অর্থ আমাদের ত্রিমাত্রিক জগতের উপরের দিকে যাওয়া নয়। আপনি যদি ক্রমাগত আকাশের দিকে যেতে থাকেন, একদিন আপনি আল্লাহর কাছে গিয়ে পৌছাবেন, তা নয়। এই ’উর্ধে’ ব্যাপারটি আমাদের কল্পনাতীত একটি ঘটনা কারণ আমরা ত্রিমাত্রিক জগতের বাইরে কিছু কল্পনা করতে পারি না। এটি শুধু এটাই নির্দেশ করে যে সৃষ্টি জগত এবং আল্লাহ এক নন।

আল্লাহ কি সবার মাঝে, সবখানে নন?

এই আয়াতগুলোকে ব্যবহার করা হয় প্রমাণ করার জন্য যে আল্লাহ আমাদের সবার মধ্যে আছেন, তাই মানুষ একটি পবিত্র সত্তা এবং মানুষ ইচ্ছা করলে আল্লাহর সাথে এক হয়ে যেতে পারে।

নিশ্চিত ভাবে ‘আমি’ মানুষকে সৃষ্টি করেছি — ‘আমি’ জানি তার অন্তর তাকে কি বলে, ‘আমি’ তার ঘাড়ের ধমনী থেকেও নিকটে। (৫০:১৬)
আর যখন আমার বান্দারা তোমাকে (মুহম্মদ) আমার ব্যপারে জিজ্ঞাসা করে বল – নিশ্চয়ই আমি কাছেই আছি। আমি তাদের প্রার্থনায় সারা দেই যখন সে সরাসরি আমাকেই ডাকে। তাই তাদেরকে আমার প্রতি সারা দিতে দাও এবং তাদেরকে আমার উপর বিশ্বাস রাখতে দাও, যাতে করে তারা সঠিক পথ পেতে পারে। (২:১৮৬)
… তিনি তোমাদের সাথে আছেন, তোমরা যেখানেই থাকো না কেন। (৫৭:৪)

এই আয়াতগুলোকে ইবন আরাবি সমর্থক, মু’তাজিলি এবং সূফীরা ব্যবহার করেন এটা প্রমাণ করার জন্য যে আল্লাহ মানুষের মাঝে রয়েছেন এবং তিনি সব জায়গায় আছেন।

কিন্তু আহল আস-সুন্নাহ  (যারা কু’রআন, সুন্নাহের, চার ইমামের অনুসারী, সংখ্যাগরিষ্ঠ সুন্নি অনুসারি) তাদের মত হচ্ছে আল্লাহ সব জায়গায় নেই। এর জন্য যে সমস্ত আয়াতে আল্লাহ ‘উর্ধে’ আছেন, ফেরেশতারা আল্লাহর কাছে ‘উর্ধে গমন’ করে এবং ঈসা নবীকে আল্লাহ ’উর্ধে’ তাঁর সান্নিধ্যে নিয়ে গিয়েছিলেন – এই আয়াত গুলোকে প্রমাণ হিসেবে দেখায়।

ফেরেশতারা এবং রূহ তাঁর দিকে উর্ধ গমন করে এক দিনে/পর্যায়ে যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। (৭০:৪)
তারা তাদের প্রভুকে, যিনি তাদের উর্ধে, তাকে ভয় করে এবং তাদেরকে যা নির্দেশ করা হয় সেটাই করে। (১৬:৫০)

আবারো মনে রাখবেন, এই উর্ধ অর্থ উপরের দিকে নয়। এর সাথে ত্রিমাত্রিক জগতের উর্ধের কোন সম্পর্ক নেই।

এছাড়াও তিনটি যুক্তি দেখানো হয়ঃ

ফিতরা - ছোট বাচ্চারা ফিতরা নিয়ে জন্ম হয়। ফিতরা হচ্ছে সত্যের প্রতি মানুষের জন্মগত সহজাত প্রবৃত্তি। একটি ছোট বাচ্চাকে যদি বলা হয় - ওই যে মাটিতে যে ময়লা পড়ে আছে, সেখানে আল্লাহ আছে - তাহলে বেশির ভাগ ছোট বাচ্চাই, যে আল্লাহ সম্পর্কে কিছুটা হলেও বুঝে, তা মেনে নেয় না। মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি হচ্ছে ঘৃণ্য কিছুতে আল্লাহ থাকতে পারে সেটা সে কখনই মেনে নিতে পারে না।

কিবলা – যদি আল্লাহ সব দিকেই থাকতেন, সব খানেই থাকতেন, তাহলে আমরা যে কোন কিছুর, বা যে কারো দিকে মুখ করেই নামায পড়তে পারতাম। কিন্তু আমাদেরকে কোন জীব বা বস্তুর প্রতি মুখ না করে বরং একটি কিবলার দিকে মুখ করে নামায পড়তে বলা হয়েছে। তার মানে এই না যে কা’বাতে আল্লাহ আছেন। সাড়া পৃথিবীর মুসলমানরা যেন যে দিকে ইচ্ছা সেদিকে মুখ করে নামায পড়া শুরু না করে এবং কোন দিকে তাকিয়ে নামায পড়া বেশি শুদ্ধ সেটা নিয়ে বিতর্ক শুরু করে না দেয়, সে কারনেই আল্লাহ সবাইকে একটি দিক নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। এছাড়াও তিনি কখনও পৃথিবীর দিকে বা নিচের দিকে মুখ করে প্রার্থনা করতে বলেন নি। হাদিসে দোয়া করার সময় নবীকে(সা) উপরের দিকে তাকাতে দেখা গেছে, যার অর্থ তিনি আল্লাহকে সৃষ্টির ‘উর্ধে’ মনে করতেন।

একজন মূর্তি পুজারি যখন মূর্তিকে পুজা করে, সে কিন্তু মূর্তিটাকে পুজা করে না, বরং সে মূর্তির ভেতরে যে স্রষ্টা আছে তাকে পুজা করে। এখানেই তাদের সাথে মুসলমানদের পার্থক্য। আমরা আল্লাহ কোন সৃষ্টির মধ্যে আছেন - এটা গ্রহণ করি না।

যৌক্তিক প্রমাণ – যদি দুটো জিনিসের অস্তিত্ব থাকে, তাহলে এটাই যুক্তি যুক্ত হয় যে সেই জিনিস দুটোর মধ্যে একটি হয় অন্যটির ভিতরে, না হয় জিনিস দুটি একে অন্য থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সুতরাং আল্লাহ যখন সৃষ্টি জগত সৃষ্টি করেন, তিনি হয় তা তাঁর ভিতরে সৃষ্টি করেছেন, না হলে তাঁর থেকে আলাদা করে সৃষ্টি করেছেন। এখন প্রথম সম্ভাবনাটি অযৌক্তিক কারণ তার অর্থ দাঁড়ায় আল্লাহ, যিনি একজন অসীম এবং সীমাহীন ক্ষমতার এবং গুণের অধিকারী, তাঁর ভিতরে একটি অংশ রয়েছে যা অসীম নয়, সীমাবদ্ধ, যাতে অসম্পূর্ণতা এবং ত্রুটি রয়েছে। সুতরাং স্বাভাবিক ভাবেই দ্বিতীয় সম্ভাবনাটি সঠিক – সৃষ্টি জগত আল্লাহর থেকে আলাদা বা ভিন্ন। সেটি কিভাবে আলাদা বা ভিন্ন সেটা আমরা কখনও কল্পনা করতে পারবো না, কারণ আমাদের কাছে আলাদা বা ভিন্ন এই ধারণাটি এই ত্রিমাত্রিক জগতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

তবে এই প্রতিটা যুক্তির অনেক পাল্টা যুক্তি আছে, বিশেষ করে যারা আল্লাহ সব জায়গায় আছেন, সব কিছুতে আছেন এই বিশ্বাস করেন, তারা বহু ধরণের যুক্তি দিয়েছেন। সেই যুক্তিগুলোর যথেষ্ট খণ্ডন করা হয়েছে। আপনি ইন্টারনেট ঘাঁটলেই পেয়ে যাবেন।

শেষ কথা

আল্লাহর সম্পর্কে গত হাজার বছরে বহু যুক্তি তর্ক হয়েছে। নানা দল, নানা সম্প্রদায় বিভক্ত হয়ে গেছে কারণ তারা আল্লাহর সংজ্ঞা সম্পর্কে একমত হয়ে পারে নি। মুসলমানদের মধ্যেই বহু ঝগড়া বিবাদ, দলীয় সংঘর্ষ হয়েছে আল্লাহকে নিয়ে, যা খুবই দুঃখ জনক। নিজেকে জিজ্ঞেস করুন - আল্লাহকে নিয়ে এত মাত্রাতিরিক্ত বিচার বিশ্লেষণ করে কি লাভ? আমরা যদি আল্লাহ সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখতে চাই, তার জন্য মাত্রাতিরিক্ত বিচার বিশ্লেষণের কোন দরকার নেই। কু’রআন পড়ে আল্লাহর যে ধারণা পাওয়া যায়, সেটা ঠিক ভাবে বুঝে কু’রআনে যে আরও শত শত আয়াত আছে, সেগুলোর দিকে আমাদের মনোযোগ দেওয়া দরকার। সবার আগে নিজেকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা দরকার, আমাদের পরিবারকে ঠিক করা দরকার, সমাজে সংস্কার করা দরকার এবং দেশে ইসলামিক আইন প্রতিষ্ঠা করার জন্য চেষ্টা করা দরকার। প্রতিদিন ২৩,০০০ মানুষ না খেয়ে মারা যাচ্ছে, ৪০০০ বাচ্চা ময়লা পানি খেয়ে মারা যাচ্ছে, শত শত নিরীহ মুসলমান অমুসলিমদের হাতে নিহত হচ্ছে। আমাদের নতুন প্রজন্ম যে হারে ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে তা চলতে থাকলে আগামি তিন প্রজন্মের মধ্যে বহু মুসলিম পরিবার অমুসলিম পরিবারে পরিণত হবে। আমাদের সেই সব গুরুত্বপূর্ণ ব্যপার গুলোর প্রতি মনোযোগ দিয়ে সেই সমস্যাগুলো আগে সমাধান করা দরকার। আল্লাহ যদি আমাদেরকে বিচারের দিন জিজ্ঞেস করেন - আমরা কেন পাঁচ ওয়াক্ত নামায না পড়ে আল্লাহ কোথায় আছে এইসব নিয়ে যুক্তি তর্ক করেছি? কেন আমরা না খাওয়া গরীব মানুষ গুলোকে খাওয়ার ব্যবস্থা করে না দিয়ে দিনরাত ইন্টারনেট-এ সৃষ্টি জগত কিভাবে আসলো এইসব নিয়ে গবেষণা করেছি? কেন আমরা আল্লাহর দেওয়া একটা মাত্র বই - কু’রআন না পড়ে শ’খানেক স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বই পড়েছি - তখন আমরা কি জবাব দিব?

সালাম।

সুত্রঃ

আগামী আর্টিকেলগুলো বের হবার সাথে সাথে জানতে চাইলে ফলো করুনঃ

ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ

About ওমর আল জাবির

কু'রআনকে গভীরভাবে ভালবাসি। সত্যকে জেনে, তা নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করে অন্যদেরকে অনুপ্রেরণা দেবার চেষ্টা করি।
This entry was posted in Uncategorized, উপলব্ধি, বিজ্ঞান. Bookmark the permalink.

15 Responses to আল্লাহ কি সব জায়গায়, সব কিছুতে আছেন? সবকিছুই আল্লাহর মধ্যে?

  1. invarBrass says:

    আপনার জ্ঞানগর্ভ অভিসন্দর্ভটি পড়ে কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।

    যাকগে, পোস্ট স্লাগ/আর্লে “allaah” বানানটি মনে হয় ভুল।

    • ওমর আল জাবির says:

      ধন্যবাদ।

      আল্লাহ এর আরবিতে লা এর উপরে একটা ছোট আলিফ আছে, যার কারণে লা লম্বা উচ্চারন হয়। আল্লাহর সঠিক উচ্চারন হচ্ছে – আল্লা-হ। একারণে সঠিক ইংরেজি হবে Allaah.
      যেমন Rahmaan. Hadeeth. Saheeh.
      তবে এভাবে সাধারনত একাডেমিক ফিল্ডেই লেখা হয়।

      ‘অভিসন্দর্ভ’ অর্থ কি?

      • invarBrass says:

        অভিসন্দর্ভ = thesis

        Thanks for the clarification.

        http://i.imgur.com/vVja2.png

        • ওমর আল জাবির says:

          ইন্টারনেট-এ সাধারনত পাবেন না। ইসলামিক ডিগ্রিগুলোর বইয়েই এরকম শুদ্ধ transliteration পাওয়া যায়।

          http://quran.azurewebsites.net/1/1
          See the transliteration.

          Then see this article.
          http://www.ahya.org/amm/modules.php?name=Sections&op=viewarticle&artid=99
          Another one:
          http://sunnahonline.com/ilm/purification/0005.htm
          See the spelling of Allaah and other Arabic transliteration in English.

          Poeple usually don’t bother about transliterating Arabic in English properly. For ex, people write Quran, which is inappropriate. It is Qur’aan. That’s why I always write কু’রআন and not কুরআন। If you do some Arabic course, it will become clear how inappropriate regular English transliteration of Arabic words are.

          Here’s an example of a excerpt from Foundation of Islamic Studies text book in IOU. You usually don’t find such precise transliteration in public domain.

          “Most of them claim to believe in Allaah, but they really commit shirk.”8
          The three categories of tawheed are commonly referred to by the following titles:
          1. Tawheed ar-Ruboobeeyah: lit. “Maintaining the oneness of Lordship,” that is, affirming that Allaah is one, without partners in his sovereignty.
          2. Tawheed al-Asmaa’ was-Sifaat: lit. “Maintaining the unity of Allaah’s Names and Attributes,” that is, affirming that they are incomparable and unique.
          3. Tawheed al-‘Ibaadah: Affirming that Allaah is alone in his right to be

          • invarBrass says:

            তা বটে। তবে দু’টো a দিলেও তো প্রপার ট্রান্সলিটারেশন হয় না। যতদূর জানি শব্দটির approximate আরবী উচ্চারণ অনেকটা এমনঃ al-lwaah

            PS: good job handling criticism in the other post.

  2. annonymous says:

    Dear ওমর আল জাবির,

    I read all your articles with great interest and no doubt you deserve a lot of praise for presenting your thinking so nicely with appropriate reference. But I found some writing confusing and you may just assumed that as true. For example you said:

    “মানুষ এমন কোন কিছু কল্পনা করতে পারে না যেটা সে এর আগে কখনও দেখেনি”

    Can you provide some reference for this assumption? From Quraan or Science. I don’t know whether this is true or not. But it seem counter intuitive to me. Because what we see around us, majority of these were not present just about 100 years ago. Don’t you think these were achieved through human imagination? And no doubt that the power of imagination is given by Allaah. So if we see this imagination as very much limited, doesn’t that mean we are denying Allaah’s gift(Of course imagination is limited in case of imagining Allaah, I am referring to other things).

  3. annonymous says:

    And another thing that obsessed me for long time is:

    “এধরনের কথা কখনও শুনেছেন? “চিন্তা সকল শক্তির উৎস”, “আমি যা চাই, সেটাই ইতিবাচক চিন্তা দিয়ে পাবো”, “ধ্যানের উচ্চস্তরে গিয়ে মহাচৈতন্য এর সাথে বিলীন হয়ে যান।” এগুলো সূফীবাদ থেকে অনুপ্রাণিত”

    I heard these things, First, when I started to study on subconscious mind — how subconscious mind works, how it can be programmed to achieve anything or how to hypnotize others with the knowledge of subconscious mind. These topics are so delicious and persuading that I thought if I could apply these I can become a super man. Secondly, I saw a documentary movie named “The Secret” and read a book about it. It described how to achieve anything just by wishing and following some guidelines. This inspired me more and I read the book and saw the movies several times so that I don’t miss any tiny details. But fortunately I didn’t try these and were not obsessed for long, since I continued to reading related material and watched some videos and finally realized all of these things refers to just one conclusion “You are God ” and what you want can achieve. This seems like very much a personal. But I am writing this because I think many people specially with little knowledge like me can easily be trapped by things like these.

    But After that I thought again and found that some of these are true other than the conclusion. Because the subconscious mind’s working principle are justified by the medical science. Some bad people uses these facts for their deceptive purpose.

    And another thing the meditation which is based on this subconscious mind’s principle and primary purpose of this meditation is to program your own subconscious mind as you wish. Now, I want to know what Islam says about meditation. Does Islam permit meditation? If so how far is permissible? because in higher level of meditation it says to coincide with nature, which in your opinion is “Shirok”.
    So please give us some light regarding this matter with some reference for further reading so the confusion is dissolved.

  4. Member222 says:

    Brother, you did now mention two important points.

    1) If Allah were in everywhere, then prophet Musa would not need to go near Tur Mountain where Allah asked Musa to come to meet.

    2) If Allah were in everywhere, then prophet Muhammad (PBUH) would not need to go at Mirraj to meet Allah near 7th sky.

    • ওমর আল জাবির says:

      I think both of these questions assume one common thing – both Prophet Musa (p) and Muhammad (p) met Allaah, in some physical form or shape. That is a wrong assumption and would have serious consequences.

      Both of these Prophets had a special way to communicate with Allaah that we don’t have. We still communicate with Allaah every moment, through our prayers, dua etc. But we do not receive an audio visual experience from Allaah. Well, we do, but we do not understand. Allaah has His own ways of communicating to us, which we do not comprehend.

      But both of these Prophets had an extraordinary audio-visual communication with Allaah. But that does not mean they met Allaah in any form or shape. They just had a special private communication with Allaah.

      Now on point 1, Allaah chose a private moment with Musa (p) to communicate to him and give him an extraordinary experience. If He did it in public, while Musa (p) was with his family, in the desert, the encounter would have totally different impact. Allaah very specifically separated Prophet Musa(p) out to a private place where only he was present and there was no other distraction. But that does not mean Musa (p) had to go to the mountain to talk to Allaah and there was no other way to talk to Him. Actually that’s wrong because in Quran there are many other occurences where Prophet Musa (p) did communicate with Allaah but he did not have to go to a mountain to do that.

      Same applies for No 2. It does not mean Prophet Muhammad (p) had to go to Miraj to meet Allah, without the Miraj, there would be no way to meet Allah. That’s not the case because in many occasions Allaah did communicate with Prophet Muhammad (p) outside Miraj. Miraj, if it was really a true physical event, was just an extraordinary physical experience for the Prophet that Allaah arranged to strengthen his belief and communicate His special message, which in other circumstances would not have the same effect and result.

      And Allaah knows best.

  5. A.K.M. Nazmul Hasan says:

    Brother O.A.Zabir,
    Can I copy and share your writings through blogs, social networking sites.

    • ওমর আল জাবির says:

      Of course! But please do not modify the content unless you have checked with me. And please do put links back to my blog so that your readers can get my future writings.

  6. Saikat Biswas says:

    ১। “যেহেতু সবকিছুর মধ্যেই আল্লাহ আছেন, সেহেতু সবকিছুই পবিত্র হতে বাধ্য। আপনার কাছে তখন গরু পবিত্র মনে হওয়া শুরু হবে, কারণ সেগুলোর মধ্যেও সৃষ্টিকর্তা আছেন। নানা ধরণের বিষাক্ত, হিংস্র প্রাণী যেমন সাপ, ইদুর, বানর পবিত্র মনে হবে, কারণ সেগুলোর মধ্যেও সৃষ্টিকর্তা আছেন। একসময় অশ্লীল, নগ্ন মূর্তি, নানা ধরণের বিকৃত চিহ্নকে আল্লাহ মানতে আর কোন সমস্যা হবে না, যেহেতু সেগুলোর মধ্যেও আল্লাহ আছেন। ”
    জিনিসটা মানা যাচ্ছে না(আপনি হয়ত অন্য কোন idea থেকে copy করছেন)। তাহলে লোকজন (যে কোন ধর্মের ই হোক) উপাসনা করার জন্য আলাদা জায়গা প্রস্তুত করতো না। হিন্দুরা ও এত টাকা খরচ করে গনেশ মূর্তি বানাত না (একটা পবিত্র ভাব আরোপ করতো না)।

    ২। অতীন্দ্রিয় ক্ষমতা বলতে আপনি কি বুঝিয়েছেন? সুফিবাদ, যোগ-ধ্যান এই সব প্রক্রিয়া প্রয়োগ করা হয় মানুষের নিজের মনের উপরে, অন্যর মনের উপরে না। নিজের মনের উপর/কামনা-বাসনার প্রভুত্ব করার জন্য যাতে মন সহজে সৃষ্টি-স্রষ্টা নিয়ে ভাবতে পারে। আপনি বোধ হয় “অতীন্দ্রিয় ক্ষমতা” বলতে যেটা বুঝিছেন সেটা লোক মুখে প্রচারিত “অতীন্দ্রিয় ক্ষমতা” (পতঞ্জলির যোগ-সূত্র এর ধ্যান নয়)। একজন ধ্যানীর-সাধকের সবচেয়ে বড় শত্রুই হল – বিত্ত-বৈভব লাভ এবং লোক মুখে প্রচারিত “অতীন্দ্রিয় ক্ষমতা”।
    ৩। মহাচৈতন্য বলতে আলাদা(স্রষ্টা- সৃষ্টি) কোন কিছু বুঝানো হয় না। ধ্যান বলতে কোন কিছুর (পাহাড়-পর্বত, নদী) রুপ কল্পনা বুঝানো হয় না। এগুলি মানুষ করে থাকে প্রাথমিক স্তরে। “আপনি কেন আশে পাশের কোন কিছুকে উপাসনা করবেন? আল্লাহ তো আপনার, আমার, সবার মধ্যেই আছেন। বাইরের কোন কিছুর উপাসনা করে কি করবেন? তার চেয়ে আপনি নিজেকেই উপাসনা করতে পারেন – কারণ আপনি নিজেই আল্লাহ। ” — এই ধরনের যুক্তি আপনি কোথা থেকে পেয়েছেন? (কোন সুফি বাদ/ধ্যান বাদ এর বই এ?) তাহলে তো বিবেকানন্দের
    “বহু রূপে সম্মুখে তোমার ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর ।
    জীবে প্রেম করে যেই জন ,সেই জন সেবিছে ঈশ্বর ।।” এর অর্থ অন্য কিছু হত?
    স্বামী বিবেকানন্দ কল্পিত ঈশ্বরের সেবা না করিয়া জীবের সেবা করিতে বলিয়াছেন ,কিন্তু তিনি জীবের উপাসনা করিতে বলেন নাই । সেবা করা ও উপাসনা করা এক অর্থ নহে ।সেবা করা হয় শরীরের দ্বারা এবং স্বার্থত্যাগ করিয়া ভগবত্‍ বোধে জীব-সেবা করিলে তদ্দ্বারা চিত্ত শুদ্ধ হয় । শুদ্ধ চিত্তে ভগবত্‍স্বরূপের চিন্তা দ্বারা, উপাসনা দ্বারা , পরে ভগবত্‍ লাভ হয় । আত্ম-ধ্যান ই সম্ভব, বাইরের বস্তুর ধ্যান সম্ভব নয় (আগে ধ্যান সম্পরকে জানুন- copy করা source থেকে নয়)।
    নিজের confusion অন্য লোকের উপরে চাপাবেন না।

    • ওমর আল জাবির says:

      Saikat:
      জিনিসটা মানা যাচ্ছে না(আপনি হয়ত অন্য কোন idea থেকে copy করছেন)। তাহলে লোকজন (যে কোন ধর্মের ই হোক) উপাসনা করার জন্য আলাদা জায়গা প্রস্তুত করতো না। হিন্দুরা ও এত টাকা খরচ করে গনেশ মূর্তি বানাত না (একটা পবিত্র ভাব আরোপ করতো না)।

      ==> হিন্দুদেরকে টাকা খরচ করে গণেশ মূর্তি বানাতে কখনই বলা হয়নি, যেরকম কিনা মুসলমানদেরকে কখনও কোনো পীরের ছবি, মাজার, কবর বানাতে বলা হয়নি। বরং কঠিন ভাবে মানা করা হয়েছে যেন সেটা করা না হয়। আপনি আমার এই আর্টিকেলটা পড়লেই বুঝতে পারবেনঃ
      http://blog.omaralzabir.com/2013/03/29/problem-of-shirk/
      এখানে আমি হিন্দুদের আদি গ্রন্থ থেকে পরিস্কার রেফারেন্স দিয়েছি। অনুগ্রহ করে উপানিসাদ পড়ে দেখুন।
      There is no image of Him. [Yajurveda 32:3]
      He is bodyless and pure. [Yajurveda 40:8]
      They enter darkness, those who worship the natural elements. They sink deeper in darkness, those who worship sambhuti (created things). [Yajurveda 40:9]
      Those whose intelligence has been stolen by material desires surrender unto demigods and follow the particular rules and regulations of worship according to their own natures. [Bhagavad Gita 7:20]
      He is One only without a second. [Chandogya Upanishad 6:2:1]
      Of Him there are neither parents nor lord. [Svetasvatara Upanishad 6:9]
      There is no likeness of Him. [Svetasvatara Upanishad 4:19]
      His form is not to be seen; no one sees Him with the eye. [Svetasvatara Upanishad 4:20]
      ইসলাম ধর্মে উপাসনা করার কোনো বিশেষ জায়গা লাগে না। আমরা রাস্তা ঘাটে, বনে জঙ্গলে যেখানেই থাকি না কেন, নামায পড়ার সময় হলে সেখানেই নামায পড়ি। আল্লাহ্‌ কোনো বিশেষ জায়গায় থাকেন না, তাকে কোনো মূর্তি ব্যবহার করে ডায়াল করতে হয়না। তিনি আমাদের সব চিন্তাই জানেন।

      ২। অতীন্দ্রিয় ক্ষমতা বলতে আপনি কি বুঝিয়েছেন? সুফিবাদ, যোগ-ধ্যান এই সব প্রক্রিয়া প্রয়োগ করা হয় মানুষের নিজের মনের উপরে, অন্যর মনের উপরে না। নিজের মনের উপর/কামনা-বাসনার প্রভুত্ব করার জন্য যাতে মন সহজে সৃষ্টি-স্রষ্টা নিয়ে ভাবতে পারে। আপনি বোধ হয় “অতীন্দ্রিয় ক্ষমতা” বলতে যেটা বুঝিছেন সেটা লোক মুখে প্রচারিত “অতীন্দ্রিয় ক্ষমতা” (পতঞ্জলির যোগ-সূত্র এর ধ্যান নয়)। একজন ধ্যানীর-সাধকের সবচেয়ে বড় শত্রুই হল – বিত্ত-বৈভব লাভ এবং লোক মুখে প্রচারিত “অতীন্দ্রিয় ক্ষমতা”।

      ==> অতীন্দ্রিয় ক্ষমতা বলতে কি বুঝিয়েছি সেটা আর্টিকেলে বলা আছে। আপনি যে উদাহরণ দিয়েছেন আমি সেটা বলিনি। বেশিরভাগ মানুষ অতীন্দ্রিয় ক্ষমতার placebo effect এর স্বীকার হয়ে মনে করে সে নিজের চিন্তা দিয়ে বিরাট সব কাজ করে ফেলছে, যেখানে কি না পরিসংখ্যান নিলে দেখা যাবে প্রতি ১০০০০ মানুষের মধ্যে ১ জনের কাকতালীয় ভাবে কিছু একটা হয়ে যায়, আর সে মনে করে যে সে তার অতীন্দ্রিয় ক্ষমতা দিয়ে সেটা করে ফেলেছে।

      ৩। মহাচৈতন্য বলতে আলাদা(স্রষ্টা- সৃষ্টি) কোন কিছু বুঝানো হয় না। ধ্যান বলতে কোন কিছুর (পাহাড়-পর্বত, নদী) রুপ কল্পনা বুঝানো হয় না। এগুলি মানুষ করে থাকে প্রাথমিক স্তরে। “আপনি কেন আশে পাশের কোন কিছুকে উপাসনা করবেন? আল্লাহ তো আপনার, আমার, সবার মধ্যেই আছেন। বাইরের কোন কিছুর উপাসনা করে কি করবেন? তার চেয়ে আপনি নিজেকেই উপাসনা করতে পারেন – কারণ আপনি নিজেই আল্লাহ। ” — এই ধরনের যুক্তি আপনি কোথা থেকে পেয়েছেন? (কোন সুফি বাদ/ধ্যান বাদ এর বই এ?) তাহলে তো বিবেকানন্দের
      “বহু রূপে সম্মুখে তোমার ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর ।

      ==> আর্টিকেলটা আবারো পড়ুন। আমি পরিস্কার করে বলেছি আমি ইবন আরাবির প্রচারিত ধারণা থেকে নিয়েছি। বিবেকানন্দ কোনো স্রস্টার পাঠানো নবী নন যে আমাদের তার কথা বিশ্বাস করতে হবে। বেশিরভাগ মানুষ আবল তাবল কথা প্রচার করে মানুষকে ব্যাপক বিভ্রান্ত করে গেছে। তাদের কথা মানার কোনো কারণ নেই। স্রস্টার সঠিক, পরিস্কার ধারণা আমরা একমাত্র স্রস্টার কাছ থেকেই পেতে পারি। নজরুল, বিবেকানন্দ, শরৎচন্দ্রের কাছ থেকে নয়। তারা শুধুই তাদের মনগড়া কথা বলে গেছেন।

      জীবে প্রেম করে যেই জন ,সেই জন সেবিছে ঈশ্বর ।।” এর অর্থ অন্য কিছু হত?

      ==> হ্যা, ‘ঈশ্বরে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর’ নামায, রোযা না করে, ঈশ্বরের নির্দেশ অনুসারে জীবন যাপন না করে, শুধুই জীবের সেবা করলে সেটা ঈশ্বরের সেবা হয় না। সবকিছুর একটা priority আছে যেটা ঈশ্বর নিজেই নির্ধারণ করে দিয়েছেন। জীবে সেবা করাই ঈশ্বরের সেবা করা নয়, সেটি ঈশ্বরের সেবা করার জন্য যা কিছু করা দরকার তার একটি subset।

      স্বামী বিবেকানন্দ কল্পিত ঈশ্বরের সেবা না করিয়া জীবের সেবা করিতে বলিয়াছেন ,কিন্তু তিনি জীবের উপাসনা করিতে বলেন নাই । সেবা করা ও উপাসনা করা এক অর্থ নহে ।সেবা করা হয় শরীরের দ্বারা এবং স্বার্থত্যাগ করিয়া ভগবত্‍ বোধে জীব-সেবা করিলে তদ্দ্বারা চিত্ত শুদ্ধ হয় । শুদ্ধ চিত্তে ভগবত্‍স্বরূপের চিন্তা দ্বারা, উপাসনা দ্বারা , পরে ভগবত্‍ লাভ হয় । আত্ম-ধ্যান ই সম্ভব, বাইরের বস্তুর ধ্যান সম্ভব নয় (আগে ধ্যান সম্পরকে জানুন- copy করা source থেকে নয়)

      ==> স্বামী বিবেকানন্দ কি বলেছেন এবং কি করতেন তাতে কিছুই যায় আসে না কারণ তিনি কোনো স্রস্টা প্রেরিত নবী নন। তার “সব ধর্মই সত্য এবং মানুষের সেবাই সর্বোৎকৃষ্ট ঈশ্বরোপাসনা” একটি ভুল ধারণা। তাকে স্রস্টা কোনো অধিকার দেননি এই মতবাদ প্রচার করার। কু’রআন তার শিক্ষাকে সমর্থন করে না, আমিও করি না।

      নিজের confusion অন্য লোকের উপরে চাপাবেন না।

      ==> আমার এই আর্টিকেলটিতে কু’রআন এবং হাদিসের আলোকে সৃষ্টিকর্তার সংজ্ঞা কি সেটা তুলে ধরা হয়েছে। আপনি যদি কু’রআন এবং হাদিস পড়ে থাকেন এবং বুঝে থাকেন এবং তারপরে এই আর্টিকেলে কোনো ত্রুটি বের করতে পারেন, আমি শুনতে খুবই আগ্রহী। যথাযথ রেফারেন্স দিলে অবশ্যই সংশোধন করে দিবো। কিন্তু আপনি যদি কু’রআন এবং হাদিস পড়ে না থাকেন, তাহলে আপনার এই আর্টিকেলে কমেন্ট করার কোনো যুক্তি নেই। এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য নয়। আপনাকে অনুরোধ করবো নিজে একবার ভেদা-র যে চারটি গ্রন্থ রয়েছে সেগুলো পড়ে দেখুন, বিশেষ করে ইয়াযুরভেদ, উপানিসাদ পড়ে দেখুন। তারপর কু’রআন পড়ুন। তারপরে আসুন যুক্তিতর্ক করি।

      • saikat78 says:

        আপনি যে ভেদা-র যে চারটি গ্রন্থ পড়েছেন – তার প্রমান হল যে আপনি চারটি পড়েও বানানটি (যেই বাংলা বানানটি আমরা ছোট কালেই পড়ে এসেছি) ঠিক করতে পাড়েন নি।

        এই আর্টিকেল যদি শুধুমাত্র (মুসলমান দের) তথা কু’রআন এবং হাদিস যারা পড়েছে তাদের জন্য হয়ে থাকে তাহলে আপনি সাম্প্রদায়িক। GOD আল্লাহ ঈশ্বর তো শুধুমাত্র কোন গোষ্ঠীর জন্য বানানো নয়।

        ” বিবেকানন্দ কোনো স্রস্টার পাঠানো নবী নন ” – আমিও বিশ্বাস করি না যে বিবেকানন্দ স্রস্টার পাঠানো নবী। কিন্তু তাই বলে অন্য কেউ যে স্রস্টার পাঠানো নবী হতে হবে সেটাও বিশ্বাস করি না। আপনি কোথা থেকে বেদ পড়েছেন source টা একটু দিবেন> বেদে কোন অবতারবাদ/নবী-বাদ নেই। বেদের ঈশ্বর পক্ষপাত যুক্ত নয়।

        আপনি বেদের সাথে হিঁদু দের পৌরাণিক বই গুলোকে এক করে ফেলেছেন। পৌরাণিক বই গুলো ১০০% মিথ্যা। আর ধর্ম বেবসায়িরা এই পুরাণ গুলা বিক্রি করেই তাদের পেট চালায়।

        বেদে মূর্তি পূজার কোন উল্লেখ নেই। আপনি রেফেরেঞ্চ দিয়েছেন উপনিষদের কিন্তু উদাহরন টেনেছেন পুরাণের (ধর্ম বেবসায়িদের), আপনি তত্ত্ব দিয়েছেন দ্বৈতবাদের কিন্তু উল্লেখ করেছেন অদ্বৈত সূত্রের । অবশ্য কিছু এখন কিছু মানুষের গুরু জাকির নায়েক ও ওই পুরাণ গুলা বিক্রি করে চলেন।

        আপনি বলেছেন – ” মূর্তিটার মধ্যে ঘনীভূত ব্রাহ্‌মান” – যারা এটা করে তারাও মনে করে যে মূর্তিটার মধ্যে “ব্রহ্ম” (যেটাকে আপনি ব্রাহ্‌মান বলেছেন) ঘনীভূত হয় না বরং ঈশ্বর চিন্তা করার জন্য মনটা ঘনীভূত হয় ও ঈশ্বর চিন্তা করার জন্য প্রস্তুত হয়।

        নিজ নিজ মতানুসারে সব পক্ষই স্বর্গগামি কিন্তু এক পক্ষের মতানুসারে অন্য পক্ষ নরকগামি — এই statement টিকে আপনি কিভাবে দেখেন?
        কিন্তু – সকল মতানুসারে ধার্মিকেরা সুখ ও পাপীরা দুঃখ ভোগ করিবে। এই statement টিকে আপনি কিভাবে দেখেন?

        এটা গ্রামের মক্তব নয় যে আপনি বলবেন – সকল মানুষ মুসলমান হয়েই জন্মায়।
        যেমন হিন্দু দের পৌরাণিক পণ্ডিতরাও বলে- গর্ভাবস্থায় সপ্তম মাসে মানুষ ঈশ্বর এর নাম পায় (তথা হিন্দুর ঐশ্বরিক নাম গুলা তথা হিন্দু হয়েই জন্মায়)।
        তাহলে আপনার জন্ম মুসলমান এর ঘরে আর ক্লিনটন সাহেবের জন্ম খ্রিস্টান এর ঘরে (আল্লাহ-ঈশ্বর-ভগবান) সর্বজ্ঞ হয়ে দিলেন কি করে?

        আপনার সাথে পড়ে কথা হবে – no problem. কিন্তু logically valid সমস্যা নাই।
        এখন একটু busy।

        • ওমর আল জাবির says:

          আপনি যে ভেদা-র যে চারটি গ্রন্থ পড়েছেন – তার প্রমান হল যে আপনি চারটি পড়েও বানানটি (যেই বাংলা বানানটি আমরা ছোট কালেই পড়ে এসেছি) ঠিক করতে পাড়েন নি।

          সম্পূর্ণ অমূলক ad hominem পদ্ধতি ব্যবহার না করে আসুন না আমরা তথ্য এবং যুক্তি আদান প্রদান করি? আমি Vedas সবসময় ইংরেজিতে পরেছি এবং সবসময় ভারতীয়দের উচ্চারণ শুনেছি দেখে এই বানান লেখায় অভ্যস্ত। যেরকম কিনা বেশিরভাগ মুসলমান কু’রআন কে লিখে কুরান বানানে, যা সম্পূর্ণ ভুল। তাছাড়া সংস্কৃতের উচ্চারণকে সরাসরি ‘বেদা’ করলেও সেটা শুদ্ধ হয় না।

          এই আর্টিকেল যদি শুধুমাত্র (মুসলমান দের) তথা কু’রআন এবং হাদিস যারা পড়েছে তাদের জন্য হয়ে থাকে তাহলে আপনি সাম্প্রদায়িক। GOD আল্লাহ ঈশ্বর তো শুধুমাত্র কোন গোষ্ঠীর জন্য বানানো নয়।

          আপনি আবারো নিজের মতো করে ধরে নিচ্ছেন। আপনাকে আবারো অনুরোধ করবো আক্রমণাত্মক মনভাব টাকে একটু সংযত করে আমি কি বলছি সেটা ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করতে। আমি বলেছি – “আমার এই আর্টিকেলটিতে কু’রআন এবং হাদিসের আলোকে সৃষ্টিকর্তার সংজ্ঞা কি সেটা তুলে ধরা হয়েছে।” এখানে আপনি কোথায় পেলেন যে আমি বলেছি এই আর্টিকেলটি শুধু মুসলমানদের জন্য? আমিতো আর্টিকেলে কোথাও বলিনি যে এই আর্টিকেলটি কোনো হিন্দু ব্যক্তি পড়তে পারবেন না? বরং আমি আপনাদেরকে অনুরোধ করবো বেশি করে পড়ার যাতে করে আপনারা সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে যে ব্যপক ভুল ধারণা প্রচলিত আছে, সেটা সম্পর্কে জানতে পারেন এবং স্রস্টার সম্পর্কে আপনাদের ধ্যান-ধারনার বাইরে কিছু চিন্তার খোরাক পেতে পারেন।
          সৃষ্টি কর্তা এক। তাকে একেক ধর্মের অনুসারীরা একেক সংজ্ঞা দিয়েছে। কিন্তু তাই বলে প্রত্যেক ধর্মের মানুষরা সাম্প্রদায়িক নয়। “সাম্প্রদায়িকতার” সাথে “স্রস্টার ধারণায় মতবিরোধ”-এর মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। এই দুটোকে অনুগ্রহ করে এক করবেন না।

          ” বিবেকানন্দ কোনো স্রস্টার পাঠানো নবী নন ” – আমিও বিশ্বাস করি না যে বিবেকানন্দ স্রস্টার পাঠানো নবী। কিন্তু তাই বলে অন্য কেউ যে স্রস্টার পাঠানো নবী হতে হবে সেটাও বিশ্বাস করি না। আপনি কোথা থেকে বেদ পড়েছেন source টা একটু দিবেন> বেদে কোন অবতারবাদ/নবী-বাদ নেই। বেদের ঈশ্বর পক্ষপাত যুক্ত নয়।

          বেদে কি আছে, তা নিয়ে আমি কোনো প্রশ্ন তুলছি না। আমি শুধু এটাই বলছি যে স্রস্টার সম্পর্কে সঠিক ধারণা শুধু মাত্র স্রস্টা প্রেরিত মানুষরাই (নবী) দিতে পারে। স্বয়ং স্রস্টার দ্বারা নির্ধারিত সংজ্ঞাই পারে মানুষকে স্রস্টার প্রকৃত রূপ সম্পর্কে জানাতে। মানুষ কোনদিনও নিজে থেকে চিন্তা করে স্রস্টার সঠিক ধারণা বের করতে পারবে না, কারণ মানুষ তার পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের অভিজ্ঞতার বাইরে কিছু চিন্তা করতে পারে না। কোনো যদু মধু পঞ্চাশ বছর গাছের নিচে ধ্যান করে হঠাৎ করে একদিন স্রস্টার সম্পর্কে কোনো ধারণা দেওয়া শুরু করলেই সেটা সত্য হয়ে যায় না। আমি কু’রআন অনুসরণ করি এবং কু’রআনের কি যুক্তি আছে সেটা আপনাকে বললাম। আপনি সেই যুক্তি মানবেন কি মানবেন না তা আপনার সম্পূর্ণ ব্যপার।

          আপনি বেদের সাথে হিঁদু দের পৌরাণিক বই গুলোকে এক করে ফেলেছেন। পৌরাণিক বই গুলো ১০০% মিথ্যা। আর ধর্ম বেবসায়িরা এই পুরাণ গুলা বিক্রি করেই তাদের পেট চালায়।

          পৌরাণিক বইগুলো অনেক খানি মিথ্যা হতে পারে, কিন্তু আমি শুধুই পৌরাণিক বইয়ের রেফারেন্স দেই নি। আমি শুরুই করেছি বেদের রেফারেন্স দিয়ে। “এক করার” প্রশ্ন আসতো যদি আমি সুবিধামত এক লাইন নিতাম বেদা থেকে, আরেক লাইন নিতাম পৌরাণিক বইগুলো থেকে এবং তারপর আমার নিজের মতো কোনো অর্থ দেবার চেষ্টা করতাম। কিন্তু আমি সেটা করিনি। আমি আপনাকে পরিস্কার ভাবে কিছু বেদার রেফারেন্স দিয়েছি, এবং কিছু পৌরাণিক বইয়ের রেফারেন্স দিয়েছি। এই থেকে দুটো জিনিস প্রমাণিত হয়ঃ
          ১) পৌরাণিক বইগুলোতে বেদার কিছুটা হলেও অবশিষ্ট আছে। অর্থাৎ সেগুলো ১০০% মিথ্যা নয়। কিছুটা হলেও বেদার সঠিক তথ্য আছে।
          ২) স্রস্টার কোনো প্রতিমা হয় না, কোনো মূর্তি বানিয়ে তার পুজা করা যাবে না, কোনো দেবদেবীর পুজা করা যাবে না, সেটা শুধু বেদ-ই বলছে না, বরং পৌরাণিক বইগুলোও বলছে। কিন্তু দুঃখজনক ভাবে পৌরাণিক বইগুলোতে ব্যপক internal conflict থাকার কারণে এক জায়গায় এক কথা এবং আরেক জায়গায় আরেক কথা চলে এসেছে।

          বেদে মূর্তি পূজার কোন উল্লেখ নেই। আপনি রেফেরেঞ্চ দিয়েছেন উপনিষদের কিন্তু উদাহরন টেনেছেন পুরাণের (ধর্ম বেবসায়িদের), আপনি তত্ত্ব দিয়েছেন দ্বৈতবাদের কিন্তু উল্লেখ করেছেন অদ্বৈত সূত্রের । অবশ্য কিছু এখন কিছু মানুষের গুরু জাকির নায়েক ও ওই পুরাণ গুলা বিক্রি করে চলেন।

          আমি আপনার এই মন্তব্যটি পড়ে বুঝতে পারলাম যে আপনি এখানে কোনো তথ্য বা যুক্তি আদান প্রদান করতে আসেন নি বরং সম্পূর্ণ নিজের মতো কিছু কথা ধরে নিয়ে, অপ্রাসঙ্গিক কিছু ব্যক্তিগত মত ব্যবহার আক্রমণ করতে এসেছেন। আপনি আমার কমেন্টটি একজন পাঁচ বছরের বাচ্চাকে দিয়ে পড়ালেও দেখবেন যে সে বলবে আমার প্রথম তিনটি রেফারেন্সই দেওয়া হয়েছে ভেদা থেকেঃ
          There is no image of Him. [Yajurveda 32:3]
          He is bodyless and pure. [Yajurveda 40:8]
          They enter darkness, those who worship the natural elements. They sink deeper in darkness, those who worship sambhuti (created things). [Yajurveda 40:9]

          আপনি বলেছেন – ” মূর্তিটার মধ্যে ঘনীভূত ব্রাহ্‌মান” – যারা এটা করে তারাও মনে করে যে মূর্তিটার মধ্যে “ব্রহ্ম” (যেটাকে আপনি ব্রাহ্‌মান বলেছেন) ঘনীভূত হয় না বরং ঈশ্বর চিন্তা করার জন্য মনটা ঘনীভূত হয় ও ঈশ্বর চিন্তা করার জন্য প্রস্তুত হয়।

          সেটা আপনার মত। কিন্তু সেটা পৃথিবীর অন্যান্য কোটি কোটি হিন্দুর মত নয়। সব হিন্দু একই ধারণায় বিশ্বাস করে না। হিন্দুদের মধ্যে ধারণায় ব্যপক বিভেদ আছে।

          নিজ নিজ মতানুসারে সব পক্ষই স্বর্গগামি কিন্তু এক পক্ষের মতানুসারে অন্য পক্ষ নরকগামি — এই statement টিকে আপনি কিভাবে দেখেন?

          কে স্বর্গে যাবে এবং কে নরকে যাবে এটা স্রস্টা নিজে বলতে পারেন। আমরা কেউ বলতে পারি না। আমরা মুসলমানরা এটাই বিশ্বাস করি যে আল্লাহ্‌ যাকে চান তাকে স্বর্গ দিবেন এবং যাকে চান তাকে নরক দিবেন। তিনি কু’রআনে আমাদেরকে শিখিয়েছেন কিভাবে চললে স্বর্গ পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

          কিন্তু – সকল মতানুসারে ধার্মিকেরা সুখ ও পাপীরা দুঃখ ভোগ করিবে। এই statement টিকে আপনি কিভাবে দেখেন?

          যদি এই পৃথিবীর কথা বলেন, তাহলে এই পৃথিবীতে সব ধার্মিকেরাই সুখ পাবে সেটার কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। যদি পরকালের কথা বলেন, তাহলে কি করলে পরকালে সুখ পাওয়া যাবে সেটার জন্য পুরো কু’রআন রয়েছে।

          এটা গ্রামের মক্তব নয় যে আপনি বলবেন – সকল মানুষ মুসলমান হয়েই জন্মায়।
          যেমন হিন্দু দের পৌরাণিক পণ্ডিতরাও বলে- গর্ভাবস্থায় সপ্তম মাসে মানুষ ঈশ্বর এর নাম পায় (তথা হিন্দুর ঐশ্বরিক নাম গুলা তথা হিন্দু হয়েই জন্মায়)।
          তাহলে আপনার জন্ম মুসলমান এর ঘরে আর ক্লিনটন সাহেবের জন্ম খ্রিস্টান এর ঘরে (আল্লাহ-ঈশ্বর-ভগবান) সর্বজ্ঞ হয়ে দিলেন কি করে?

          এখানে গ্রামের মক্তব কোথা থেকে আসলো বুঝলাম না। তবে আপনি মুসলমানের সংজ্ঞা জানেন না এটা বুঝতে পারছি। মুসলমান অর্থ – যে এক স্রস্টার ইচ্ছার কাছে নিজের ইচ্ছাকে সমর্পণ করে। আমরা মুসলমানরা বিশ্বাস করি প্রত্যেক শিশু জন্ম হয় এই সহজাত প্রবৃত্তি নিয়ে। সে জন্ম হয়েই স্রস্টার সাথে বিরোধিতা করে না। সে স্রস্টা প্রদত্ত মানবিক গুণাবলী এবং সহজাত প্রবৃত্তির উপর বেড়ে উঠে। সে তখন “মুসলমান” থাকে। তারপর তার বাবা-মা, সমাজ, সংস্কৃতি তাকে পরে অন্যান্য ধর্মের ভুল ধারণা দিয়ে তার সহজাত “মুসলিম” প্রবৃত্তিকে কলুষিত করে দেয়। এটা কোনো গ্রামের মক্তবে পড়ানো হয় না, বরং বিশ্ব বিদ্যালয়ে পড়ানো হয়। আপনাকে অনুরোধ করবো এই ব্যপারটা নিয়ে আরও পড়াশুনা করার কারণ আপনি কোনো ভাবেই আমার এই কয়েক লাইনের বর্ণনা শুনে কিছুতেই বুঝবেন না “সকল মানুষ মুসলমান হয়ে জন্মায়” বলতে কি বোঝায়।

          বিঃদ্রঃ আমি এই বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করার প্রয়োজন দেখছি না কারণ এভাবে চলতে থাকলে আপনার আমার দুজনেরই অনর্থক সময় নষ্ট হবে। আমাদের দুজনেরই ধর্মীয় বই গুলো আরও বেশি করে পড়ে অনেক চিন্তা করার যথেষ্ট প্রয়োজন রয়েছে।
          সালাম।

কমেন্ট করার আগে নিচের ব্যাপারগুলো খেয়াল করুনঃ

  • ভদ্র, মার্জিত ভাষায় কথা বলুন।
  • অনেকগুলো পয়েন্ট দিয়ে একটা বিরাট কমেন্ট করবেন না। প্রতিটি পয়েন্ট নিয়ে আলাদা করে কমেন্ট করুন যাতে আমি আপনার প্রতিটি পয়েন্টের উত্তর আলাদা ভাবে দিতে পারি।
  • ব্যক্তিগত মতামত দিয়ে কমেন্ট করবেন না। আপনার প্রতিটি মতের যথাযথ রেফারেন্স দিন।
  • আমি কোনো ইসলামিক স্কলার নই, কোনো আদর্শ মুসলমানও নই। আমি ইসলামকে শেখার চেষ্টা করছি এবং আমার পড়া একাডেমিক জার্নাল, লেকচার এবং বইয়ের মধ্য থেকে আকর্ষণীয় ব্যাপারগুলো সবার সাথে সহজ বাংলায় শেয়ার করার চেষ্টা করছি।
  • আপনার সঠিক ইমেইল এড্রেস দিন। আমি ছাড়া অন্য কেউ আপনার ইমেইল এড্রেস দেখতে পাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>